Life Style News

2 hours ago

Healthy Skin Tips: শুধু শীতেই নয়, গ্ৰীষ্মের মরশুমেও ত্বকে তেল দরকার! কেন বলছেন বিশেষজ্ঞরা? জানুন বিস্তারিত

Body Oil Massage Benefits
Body Oil Massage Benefits

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  শীত পড়লেই ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়ম করে তেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন। ঠান্ডা হাওয়া ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে তখন ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, তাই তেল বা ক্রিম মাখার চলও বেড়ে যায়। কিন্তু শীত শেষ হতেই সেই অভ্যাস অনেকেরই হারিয়ে যায়। গরম পড়লেই তেল মাখার কথা প্রায় ভুলেই যান বেশিরভাগ মানুষ। কারণ, তেল মাখলে গায়ে চটচটে ভাব, অতিরিক্ত ঘাম এবং অস্বস্তি হতে পারে—এমন ধারণাই প্রচলিত। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শীতকালেই নয়, বছরের অন্যান্য সময়েও ত্বকের যত্নে তেল ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত তেল মালিশ ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

∆ গরমেও কেন গায়ে তেল মাখা জরুরি?

· ঈষদুষ্ণ তেল গায়ে মালিশ করলে আরাম তো হয়ই, স্নায়ুও শিথিল হয়। শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার জন্য রক্ত সঞ্চালন খুবই জরুরি। তা ছাড়া, সঠিক কায়দায় কেউ তেল মালিশ করলে, ক্লান্তি কাটে নিমেষে, শরীরও ঝরঝরে লাগে।

· গরমের দিনে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে অনেকেই তেল মাখতে চান না। তবে যে সব এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম, সেখানে কিন্তু গরমেও ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তা ছাড়া বাড়িতে বা অফিসে অনেকটা সময় এসিতে থাকতে হলেও ত্বকের ময়েশ্চারাইজ়ার বা আর্দ্রতা কমে। তেল ত্বকের সুরক্ষা বর্ম হিসাবে কাজ করে, ময়েশ্চারাইজ়ার ধরে রাখে।

· তেলেও ত্বকের উপযোগী ভিটামিন, খনিজ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়ম করে তেল মালিশ করে ভিটামিন এবং খনিজ ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। ত্বক কোমল এবং মসৃণ রাখে। নিয়ম করে মাসাজ়ে জেল্লা বৃদ্ধি পায়।

· বলিরেখা এবং রুক্ষ ভাব কমাতেও তেল মাখা জরুরি। বিশেষত যাঁদের ত্বকের ধরন বেশি শুষ্ক, তাঁদের বছরভর তেল মাথা আবশ্যক।

∆ গরমের উপযোগী হবে কোন তেল?

১. নারকেল তেল:  নারকেল তেল যেমন শীতে মাখা যায়, তেমন গরমেও ব্যবহার করা যায়। ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই-তে পূর্ণ নারকেল তেল চুলের পাশাপাশি ত্বকে মালিশের জন্যও ভাল। এই তেল একটু পিচ্ছিল হয়। তেল মালিশ মানেই যে প্রচুর পরিমাণে তেল মাখতে হবে এমনটা নয়, বরং যতখানি দরকার ততটাই ব্যবহার করা উচিত। তেল মালিশ করার আধ ঘণ্টা পরে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করে নিলে ত্বক নরম এবং সুন্দর হবে। চটচটে ভাব থাকবে না।

২. চন্দন তেল:  চন্দন কাঠ থেকে পাওয়া যায় তেলটি। ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী এই তেল। এতে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান।তা ছাড়া, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় তেলটি ত্বকের ছোটখাটো সংক্রমণ প্রতিরোধেও সক্ষম। চন্দনের নিজস্ব গন্ধ রয়েছে। এর তেল স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। গায়ে মাসাজের জন্য যেমন চন্দন তেল পাওয়া যায় তেমনই এসেনশিয়াল অয়েল হিসাবেও চন্দনকাঠের তেল বিক্রি হয়। এসেনশিয়াল অয়েল অবশ্য সরাসরি মাখা ঠিক নয়। ৩-৪ টেবিল চামচ নারকেল তেল বা আর্গন তেলে ৭-৮ ফোঁটা চন্দন তেল মিশিয়ে সেটি গায়ে মালিশ করতে পারেন।

৩. কাঠবাদামের তেল:  ভিটামিন এ এবং ই-তে সমৃদ্ধ কাঠবাদামের তেল অনেক অভিনেত্রী নিয়মিত মুখে মাসাজ় করার জন্য ব্যবহার করেন। কাঠবাদামের তেল ত্বকের জন্যও ভাল। কাঠবাদামের তেলে থাকে রেটিনল, যা ত্বক মসৃণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। তেলটি বেশি চটচটে বা ঘন থাকলে তা নারকেল তেল বা হোহোবা অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে নিতে পারেন।

তাই শুধু শীতকালেই নয়, গরম বা বর্ষা—সব ঋতুতেই পরিমিত তেল ব্যবহার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে আবহাওয়া ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপরিউক্ত যেকোনো তেল বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

You might also like!