
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দিনভর পরিশ্রম করেও অনেকের জীবনে আর্থিক স্থিতি আসে না বলে অভিযোগ শোনা যায়। মাস শেষে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের চাপ বেশি থাকায় সংসারে স্বস্তি না থাকাটাও অনেকের ক্ষেত্রে বাস্তব চিত্র। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বাস্তুশাস্ত্রের দিকেও নজর দেন।বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের সঙ্গে আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে ঘর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত ঝাঁটা বা ঝাড়ু ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ভুল সময়ে বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
বাস্তুবিদ এবং শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ঘর পরিষ্কার করার শ্রেষ্ঠ সময় হল ‘কাকভোর’। সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্য ওঠার ঠিক মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ঝাড় দেওয়া অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক। বিশ্বাস করা হয়, ভোরের বাতাসে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ থাকে। এই সময়ে ঘর পরিষ্কার করলে রাতভর জমে থাকা নেতিবাচক শক্তি বা অলক্ষ্মী বিদায় নেয় এবং ঘরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নতির যোগ তৈরি হয়।সূর্যাস্তের পর কেন ঝাঁটা ছোঁয়াবেন না?
সনাতন রীতি অনুযায়ী, সন্ধ্যাবেলা হল ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমনের সময়। আর সেই সন্ধিক্ষণে যদি কেউ ঘর ঝাড় দেয়, তবে তা দেবীকে অপমান করার শামিল বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র বলছে, সূর্যাস্তের পর ঝাড় দিলে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হয়ে গৃহত্যাগ করেন। এর ফলে কেবল যে পকেটে টান পড়ে তাই নয়, ঘরে নিত্য অশান্তি, সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বাসা বাঁধতে পারে।
তবে এই বিশ্বাসের পেছনে একটি চমৎকার ব্যবহারিক বা লজিক্যাল কারণও লুকিয়ে রয়েছে। আগেকার দিনে যখন বৈদ্যুতিক আলোর অভাব ছিল, তখন রাতে ঝাড়ু দিতে গিয়ে ধুলোবালির সঙ্গে ঘরের ছোটখাটো মূল্যবান অলঙ্কার বা দরকারি কাগজ অজান্তে জঞ্জালের সঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার ভয় থাকত। সেই ‘ধন’ হারানোর আশঙ্কা থেকেই প্রাচীন মুরুব্বিরা সন্ধ্যার পর ঝাড় দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী প্রথায় পরিণত হয়েছে।
ঝাড়ু রাখার কিছু জরুরি নিয়ম:
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ঝাঁটা কখনই খোলা জায়গায় বা সবার চোখের সামনে ফেলে রাখা উচিত নয়। ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের অর্থ বা গয়না আলমারিতে লুকিয়ে রাখি, ঝাড়ুকেও সেভাবেই কোনও আড়ালে বা নির্দিষ্ট স্থানে ঢেকে রাখতে হয়। এলোমেলো বা যত্রতত্র ঝাড়ু পড়ে থাকলে তা পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতায় বড়সড় আঘাত হানে। এছাড়া ঝাড়ু সবসময় শুইয়ে রাখা উচিত, দাঁড় করিয়ে রাখা বাস্তুমতে অশুভ।
