Country

2 hours ago

PM Modi:বিরোধীদের ‘চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি’! নারী সংরক্ষণ ইস্যুতে কংগ্রেস-তৃণমূল শাস্তি পাবে—বিস্ফোরক মোদি

PM Modi
PM Modi

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ভারতীয় গণতন্ত্রে নজিরবিহীন মুহূর্ত—জাতির উদ্দেশে ভাষণে সরাসরি বিরোধীদের নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘নারীশক্তি বন্দন’ বিল পাশ না হওয়ার দায় চাপালেন কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির উপর, কড়া বার্তা—“এই পাপের শাস্তি পেতেই হবে।”

একদিন আগেই সংসদে নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। সংবিধান সংশোধনী আইন পাশ করানোর সংখ্যা সরকারের হাতে ছিল না। এই বিলের আড়ালে থাকা আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসাবে উল্লেখ করে সেটিকে সমর্থন করেনি বিরোধীরাও। সব মিলিয়ে সংশোধনী আইনটি পাশ হয়নি। যার দায় বিরোধীদের উপর চাপিয়ে মোদি বললেন, “নারীশক্তি বিল আটকে বিরোধীরা যে ভুল করল, তার জন্য দেশের নারীরা তাদের কখনও ক্ষমা করবেন না। মেয়েরা সব ভুলতে পারে, অপমান ভুলতে পারে না।”

নাম করে করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর তোপ, “গণতন্ত্রের কাছে লজ্জা। নারীর সমর্থনে বিল পেশ করা হল। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি এর বিরোধিতা করল। এই বিল কেবল প্রস্তাব ছিল না, এই বিল ছিল নারীর আত্মসম্মানের প্রশ্ন।” মোদির তোপ, “সকলকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা ছিল এই বিল। নারীশক্তি বন্দন সংশোধন উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সব রাজ্যেকে শক্তিবৃদ্ধির প্রয়াস ছিল। সমান অনুপাতে শক্তিবৃদ্ধির কৌশল ছিল এই বিল। এই প্রয়াসটাকে গোটা দেশের সামনে গণহত্যা করে দিল কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল।” রীতিমতো কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রী এই বিল সমর্থন না করার সঙ্গে ভ্রুণহত্যার তুলনা করলেন।

মোদির তোপ, “ঐতিহাসিকভাবেই কংগ্রেস নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী। প্রতিবার কোনও না কোনও অজুহাত তুলে এরা এই বিলের বিরোধিতা করে এসেছে। ওদের কাছে সুযোগ ছিল, নিজেদের ইতিহাস বদলানোর। কিন্তু সেই সুযোগ ওরা হাতছাড়া করল। কংগ্রেস আরও একবার প্রমাণ করল ওরা সংস্কার বিরোধী, মহিলা বিরোধী। সুকৌশলে বিভাজনের রাজনীতির চেষ্টাও করল হাত শিবির।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বসে এভাবে জাতীয় পতাকাকে পিছনে রেখে বিরোধীদের নাম করে নিশানা করতে পারেন কি প্রধানমন্ত্রী?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে লাগাতার মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে, ওরা দাবি করছে আসন পুনর্বিন্যাসে একাধিক রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে কোনও রাজ্যে আসনের অনুপাত বদলাবে না, পরিনিধি কমানো হবে না, বরং সব রাজ্যের আসন সমানুপাতিক হারে বাড়বে।”

এরপরই সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরপরও কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি এর বিরোধিতা করল। এই বিল সব দল ও রাজ্যগুলির কাছে সুযোগ ছিল। এটা পাশ হলে তামিলনাড়ু, বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ সব রাজ্যের আসন বাড়ত। কিন্তু স্বার্থপর রাজনৈতিক কারণে এই নিজের রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ডিএমকের কাছে সুযোগ ছিল আরও বেশি তামিল সাংসদকে লোকসভায় নির্বাচিত করার। তৃণমূলের কাছে সুযোগ ছিল বাংলার জনগণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ এরা নষ্ট করেছে।” সমাজবাদী পার্টিকে তোপ দেগে মোদি আরও বলেন, “সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই রামমনোহর লোহিয়াকে ভুলে গিয়েছে। কিন্তু এখন নারীশক্তি বিলের বিরোধিতা করে তারা লোহিয়ার স্বপ্নকে পদদলিত করল। উত্তরপ্রদেশের এবং দেশের নারীরা এটা কখনোই ভুলবে না।”

যদিও প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে পালটা মোদিকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাশ করাতে মহিলাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল মোদি সরকার। মহিলাদের জন্য এটা সবচেয়ে বড় অপমান।’ এই মন্তব্যের ব্যাখ্যায় ইংরেজিতে ‘DECOY’ শব্দ ব্যবহার করেছেন ডেরেক। যার অর্থে ডেরেক লিখেছেন, ‘এমন কোনও বস্তু বা ব্যক্তি যা ব্যবহার করে কাউকে প্রতারিত করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করানো হয়।’

তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে উঠেপড়ে লেগেছিল মোদি সরকার। যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। দ্বিতীয়টি ছিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল। এবং তৃতীয়টি ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। বিলটির বিরোধিতায় একজোট হয় বিরোধী শিবির। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের। তা না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি। বিরোধীদের তরফে দাবি জানানো হয়, ২০২৩ সালে যে মহিলা সংরক্ষণ বিল সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছিল তা অবিলম্বে লাগু করা হোক।

You might also like!