
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক : দফার ভোটে রাজ্যে নজিরবিহীন ভোটদানের হার লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোটদানের হার পৌঁছেছে প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি, যা অতীতের একাধিক নির্বাচনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে বলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।ভোটগ্রহণ শেষে শাসকদল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক বৈঠকে দলের বেলাঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, রাজ্যের ভোটাররা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন ব্যাপকভাবে।
প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে বাংলায়। সকাল থেকে দু’একটি বিচ্ছিন্ন অশান্তি ছাড়া মোটের উপর নির্বিঘ্নেই কেটেছে প্রথম দফার ভোটপর্ব। প্রথম দফা ভোটে নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। শুভেন্দুর জেলায় ভোটদানের হার নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “নন্দীগ্রামে পবিত্র কর বিপুল ভোটে জিততে চলছে। ১ ব্লক থেকে বিপুল ব্যবধান পাবে তৃণমূল। ২ ব্লকে হাল ছেড়ে দিয়েছে বিজেপি।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন কুণাল। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম তৃণমূল জিতছে, আগের বিধায়ক প্রাক্তন হতে চলেছেন। বুঝতে পেরেই নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর মানসিক চাপ প্রকাশ পাচ্ছে।”
জয়ের ক্ষেত্রে কার্যত ‘আত্মবিশ্বাসী’ কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “প্রতিটি জেলা থেকে যে রিপোর্ট পাচ্ছি, তাতে মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সমর্থনে ভোট দিয়েছেন মানুষ। বিজেপির বঙ্গ বিরোধী অবস্থান ও ভোটের নামে কমিশনের যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে বাংলা।” ভোটের হার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ তোলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, “ভোটের হার নিয়ে ভুল ন্যারেটিভ বোঝাতে চাইছে বিজেপি। আগামী ক’টা দিন কর্মীদের টিকিয়ে রাখার জন্যই ভুল বোঝানোর কৌশল অবলম্বন করেছে বিজেপি।”
দিনভর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চললেও কংগ্রেস, সিপিএমের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তুলেছেন কুণাল। প্রথম দফা ভোটের হারে আত্মবিশ্বাস রেখেই তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করা হয়, প্রথম দফা ট্রেলার মাত্র, দ্বিতীয় দফাতেও মানুষের বিপুল সমর্থন পাবে ঘাসফুলশিবির। মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত আশীর্বাদেই চতুর্থবারের জন্য সরকার গড়ার লক্ষ্যে আরও একবার এগিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। এবিষয়ে আশাবাদী রাজ্যের শাসকদল।
