
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাইরে পা রাখলেই তীব্র গরম আর ঘামের অস্বস্তি—এই সময় ত্বকের সমস্যাও যেন বেড়েই চলেছে। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোবালি এবং দূষণের কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে গিয়ে ত্বকে দেখা দিচ্ছে র্যাশ, ছোট ছোট দানা, চুলকানি কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে বাজারে পাওয়া কড়া কেমিক্যালযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন, কিন্তু তাতে সমস্যা কমার বদলে অনেক সময় আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই এই সময় অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত বা কড়া রাসায়নিক সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই ভালো। বরং ঘরোয়া কিছু সহজ উপাদান ব্যবহার করেই ত্বককে রাখা যেতে পারে পরিষ্কার ও আরামদায়ক।
* গরমের র্যাশ বা ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে চন্দনের চেয়ে ভালো বিকল্প আর কিছু নেই। চন্দনের শীতল গুণাগুণ ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে নিমেষেই আরাম দেয়। চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যদি ত্বকে খুব চুলকানি হয়, তবে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে শুধু র্যাশ কমবে না, আপনার ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ ও উজ্জ্বল।
* র্যাশ হওয়া মানেই ত্বক ভেতরে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে আছে। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল আর শসার রস মিশিয়ে একটি ন্যাচারাল ক্লিনজার বানিয়ে নিন। শসার রস ত্বকের জ্বালা ভাব কমায় আর অ্যালোভেরা কাজ করে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে। বাইরে থেকে ফিরে এই মিশ্রণটি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং নতুন করে র্যাশ হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
* গরমের ঘাম থেকে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়া খুব স্বাভাবিক, যা থেকে পরে ব্রণ বা র্যাশ দেখা দেয়। এক মুঠো নিম পাতা বাটা বা নিমের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য বেসন আর জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। নিম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে আর বেসন ত্বকের গভীরে জমে থাকা ঘাম-ময়লা টেনে বের করে আনবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান গরমে ত্বকের সংক্রমণ রোধে সবথেকে বেশি কার্যকরী।
* যাঁদের ত্বক প্রচণ্ড তৈলাক্ত এবং গরমে ঘনঘন র্যাশ বেরোয়, তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি আর টক দইয়ের মিশ্রণ আদর্শ। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে কোমল রাখে আর মুলতানি মাটি অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে রাখে কালচে ছোপ মুক্ত। স্নানের আগে এই প্যাকটি দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে নিলে দিনভর ফ্রেশ লাগবে।
এই ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকের উপর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কম থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বক ভালো থাকে। গরমের দিনে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং হালকা, প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়াই হতে পারে সুস্থ ও আরামদায়ক ত্বকের চাবিকাঠি। অল্প যত্ন আর সঠিক উপাদান বাছাই করলেই গরমের এই অস্বস্তিকর ত্বকের সমস্যা থেকে সহজেই মিলতে পারে স্বস্তি।
