
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ত্বকে শুষ্কতা, রুক্ষভাব আর ছাল ওঠার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। ঠান্ডা হাওয়া ও কম আর্দ্রতার প্রভাবে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয় সহজেই। তাই এই সময় ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে হেঁশেলের নানা উপকরণ দিয়ে ফেসমাস্ক বানিয়ে থাকেন অনেকেই। মধু, দই, বেসন বা অ্যালোভেরা—এই সব উপাদান সাধারণত ত্বকচর্চার তালিকায় থাকলেও ঘি থাকে না বললেই চলে। অথচ বাড়িতে রাখা পুরনো ঘি যে ত্বকচর্চায় দারুণ কাজে আসতে পারে, সে কথা অনেকেরই অজানা। রান্নার পাশাপাশি আয়ুর্বেদেও ঘি-র ব্যবহার বহু পুরনো। মুখের ভিতরের ঘা সারানো থেকে শুরু করে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে ঘি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
* কী কী ভাবে ঘি ব্যবহার করা যায়?
রোজের ত্বকচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক প্রসাধনীকে টেক্কা দিতে পারে ঘি। দেখে নিন কোন কোন ক্ষেত্রে কী ভাবে ব্যবহার করা যায়।
১। রাতের ময়েশ্চারাইজ়ার: রাতে ঘি মেখে শোয়ার ধাপ সবচেয়ে সহজ। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে অল্প গোলাপজল মেখে নিন। আঙুলে ঘি তুলে নিন। ভাল করে হাতের মধ্যে ঘষে নিয়ে তা উষ্ণ করে নিন। তার পর একে একে ঠোঁট, চোখের তলা, কনুইয়ের মতো মুখ ও দেহের অতি শুষ্ক অংশে মেখে নিন। জল দিয়ে না তুলে ঘুমিয়ে পডুন। সকালে উঠে দেখবেন, ত্বক ভীষণ কোমল হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহে ২-৩ বার এ ভাবে ত্বকচর্চা করুন।
২। ঠোঁটের ক্রিম: ঘুমোতে যাওয়ার আগে খানিক ঘি ঠোঁটে বামের মতো মেখে নিন। সারারাত এ ভাবেই রেখে দিন। সকালে উঠে ওষ্ঠাধর অত্যন্ত নরম মনে হবে।
৩। গা মালিশের উপকরণ: সপ্তাহে ২ বার তেলের বদলে ঘি দিয়ে শীতের সময়ে গা মালিশ করতে পারেন। ২০ মিনিট মতো রেখে দিয়ে তার পর স্নান করে নিতে পারেন। এর ফলে ত্বকে রক্তচলাচল ভাল হবে, ত্বকের বর্ণ সমান হবে, ত্বক কোমল হবে।
৪। ফেসপ্যাক: আধ চামচ ঘিয়ে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে গায়ে ও মুখে মেখে নিন। ১০ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই দুয়ের যুগলবন্দি ত্বকের নিস্তেজ ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে পারে মুহূর্তে।
৫। হাত-পা-গোড়ালির লোশন: শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কনুই, গোড়ালি, ঠোঁট ইত্যাদি। সে সব ক্ষেত্রে ঘি দিয়ে মালিশ করা প্রয়োজন। দরকারে অল্প নারকেল তেলও মিশিয়ে মাখতে পারেন।
৬। চোখের তলার কালি দূর করার ক্রিম: আন্ডার-আই ক্রিমের জমানাতেও ঘরোয়া টোটকার কদর কমেনি। কারণ সঠিক ভাবে কাজ করতে এগুলিই বেশি কার্যকর। তাই ঘি ব্যবহার করে চোখের তলার ক্লান্তি দূর করতে পারেন। রাতে শোয়ার আগে চোখের তলায় মেখে শুতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কালো ছোপ মিলিয়ে দিতে সাহায্য করবে।
