দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:হরমুজ দখলে আমেরিকার ‘একলা চলো’ নীতি। মিত্রশক্তির সাহায্য না পেয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরান সীমান্তে নজিরবিহীন হামলা চালাল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এই অভিযানে ব্যবহৃত ৫০০০ পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো মাটির গভীর স্তরে থাকা ইরানি মিসাইল লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের পথ সুগম করতেই আমেরিকা এই সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। আমেরিকার এই একক পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের আধিপত্য রক্ষার এক চরম পরীক্ষা।
বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড। যেখানে জানানো হয়েছে, ‘কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেনা হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূল বরাবর ৫ হাজার পাউন্ডের একাধিক ডিপ পেনিট্রেটর বোমা হামলা চালিয়েছে। যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটি। এখান থেকেই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এই ঘাঁটিতে থাকা ইরানের জাহাজ ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছিল।’ সোশাল মিডিয়ায় বার্তার পাশাপাশি হরমুজের ম্যাপের ছবি ও হামলার নির্দিষ্ট ঠিকানাও তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। যা ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযানের পোশাকি নাম।
উল্লেখ্য, আমেরিকার ও ইজরায়েলের তরফে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে ইরান। তবে যুদ্ধে তেহরানের মূল রণনীতি তৈল ধমনী হরমুজকে অচল করে দেওয়া। সে লক্ষ্যে এখনও পর্যন্ত সফল খেমেনেইয়ের দেশ। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে এক লিটার তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যাবে না। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তৈল বাণিজ্যের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যথেষ্ট চাপে আমেরিকার। সরবরাহে ঘাটতির পাশাপাশি তেলের দামও চড়চড়িয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপে মুখে পড়েছে আমেরিকা।
এই অবস্থায় হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর জন্য মিত্র শক্তির কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের আবেদনে কেউ সাড়া দেননি। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত কেউ সাড়া না দেওয়ায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ন্যাটোকে নিশানায় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘প্রতিবছর এই দেশগুলিকে রক্ষা করতে আমেরিকা কয়েকশো বিলিয়ন ডলার খরচ করে, অথচ এর বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সমর্থনটুকুও পায় না।’ কড়া সুরে তিনি জানান, ‘আমরা একাই যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। তাই ন্যাটো দেশগুলির সাহায্যের আর প্রয়োজন নেই। আমরা তা চাইও না। জাপান, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি বলছি, আমাদের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই! এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।’ ট্রাম্পের এই বার্তার পরই এবার হামলা চলল হরমুজের তীরে।
Hours ago, U.S. forces successfully employed multiple 5,000-pound deep penetrator munitions on hardened Iranian missile sites along Iran’s coastline near the Strait of Hormuz. The Iranian anti-ship cruise missiles in these sites posed a risk to international shipping in the… pic.twitter.com/hgCSFH0cqO
— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 17, 2026
