
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য দিনের শুরুটা হয় সেহরীর খাবার দিয়ে। ভোরের আগেই এই খাবার খেতে হয় বলে সাধারণত খুব ভারী বা তৈলাক্ত কিছু খাওয়া অনেকেই এড়িয়ে চলেন। কিন্তু সেহরীর খাবার এমন হওয়া জরুরি, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে পারে এবং সারাদিন সতেজ থাকতে সাহায্য করে।
এই ক্ষেত্রে ওটস হতে পারে একটি আদর্শ খাদ্য। পুষ্টিগুণে ভরপুর ওটস শরীরকে দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখে এবং হজমেও সহায়ক। ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, বিশেষ করে বিটা-গ্লুক্যান নামক উপাদান, যা পেটে গিয়ে দীর্ঘ সময় ভরপেট থাকার অনুভূতি দেয়। এছাড়াও এতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেহেরীর জন্য ওটস দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর জলখাবার। যেমন—
১। ফুটন্ত দুধে অর্ধেক কাপ ওটস দিয়ে ৩-৪ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। ওটস নরম হলে, দুধ মাঝারি আঁচে নিয়ে আসুন। একটি কলা টুকরো করে দিয়ে দিন তার মধ্যে। স্বাদ আনতে দিন এক টেবিলচামচ মধু। চিনিও দেওয়া যেতে পারে, তবে তাতে খাদ্যগুণ ব্যহত হয়। চাইলে দারুচিনি গুঁড়োও দিতে পারেন। না দিলেও অসুবিধে নেই। আরও এক মিনিট মতো নেড়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
২। ফুটন্ত দুধে অর্ধেক কাপ ওটস দিয়ে ৩-৪ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। ওটস নরম হলে, দুধ মাঝারি আঁচে নিয়ে আসুন। একটি কলা টুকরো করে দিয়ে দিন তার মধ্যে। স্বাদ আনতে দিন এক টেবিলচামচ মধু। চিনিও দেওয়া যেতে পারে, তবে তাতে খাদ্যগুণ ব্যহত হয়। চাইলে দারুচিনি গুঁড়োও দিতে পারেন। না দিলেও অসুবিধে নেই। আরও এক মিনিট মতো নেড়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
৩। এই রান্নায় আগুনের প্রয়োজন পড়বে না! একটি কাচের পাত্রে অর্ধেক কাপ অটস নিন। মেশান এক কাপ দুধ। দুধ আগে থেকেই ফুটিয়ে, ঠান্ডা করে রাখতে হবে। চামচ দিয়ে ভালোভাবে মেশান। দিন চিয়া সিড, কুঁচানো আমন্ড, আপেল, বেদানা, কলা কিংবা অন্য কোনও পছন্দের ফল। ফ্লেভার বাড়াতে ভ্যানিলা পাউডারও দেওয়া যেতে পারে। পাত্রটি চাপা দিয়ে রেখে দিন সারা রাত। সকালে আরও একবার চামচে নেড়ে নিন মিশ্রণটি। সামান্য দুধ মেশাতে পারেন, তাতে মণ্ডের ঘনত্ব কমবে। স্বাদ ও স্বাস্থ্যে অতুলনীয় ওটসের এই রেসিপি।
৪। রমজানে প্রচুর পরিমাণে খেজুর খাওয়া হয়। তাই খেজুরকেও কাজে লাগানো যায় জলখাবারে। গ্যাস জ্বালানোর দরকার পড়বে না। কাচের পাত্রে অর্ধেক কাপ ওটস নিন। মেশান আগে থেকে ফুটিয়ে রাখা এক কাপ দুধ। তাতে দিন চিয়া সিড, কুঁচিয়ে রাখা আমন্ড অথবা আখরোট, কুঁচানো খেজুর। ইচ্ছে হলে দারুচিনি গুঁড়োও দেওয়া চলে। ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিন সারা রাত। ভালোভাবে জমাট বাঁধে যাতে, তার জন্য ফ্রিজেও রাখা যায়। সকালে মিশ্রণ আরও একবার নেড়ে নিলেই রেডি।
৫। ওটসের মিষ্টি রেসিপি ভালো না লাগলে ঝাল-ঝাল করেও বানানো যায়। গরম জলে ৩-৪ মিনিট অবধি ওটস ফুটতে দিন। নুন, গোলমরিচ, মাখনের টুকরো দিন তাতে। নামিয়ে তা খানিক ঠান্ডা হলে, উপরে ছড়িয়ে দিন কুঁচিয়ে রাখা পিঁয়াজ, টমেটো, শশা। লেবুর রসও ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে মাখন বাদ দিতে হবে। ফোটনোর সময় জলের বদলে ভেজিটেবল স্টকও দেওয়া চলে। খেতে মন্দ লাগবে না। শরীরও থাকবে একেবারে ঝরঝরে!
রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে সেহরীর খাবার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সহজে হজম হয়, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়—এমন খাবার হিসেবে ওটস হতে পারে প্রতিদিনের সেরা পছন্দ।
