International

1 hour ago

Trump :ইরানের তেলকেন্দ্র খর্গ দ্বীপে হামলা, ‘সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত’—দাবি ট্রাম্পের

Strait of Hormuz
Strait of Hormuz

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধ শুরুর পরেই হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেলের বাজারে হাহাকার। তার পাল্টা এ বার ইরানের খার্গ দ্বীপে (America Hit Kharg Island) হামলা চালাল আমেরিকা। শুক্রবার গভীর রাতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে একাধিক মিসাইল (Missile)। তছনছ হয়ে যায় পুরো এলাকা। উল্লেখ্য, এই দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র। তবে সেখানে কোনও হামলা চালানো হয়নি বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (American President Donald Trump)।

ইরানের সমুদ্র উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে খার্গ আইল্যান্ড। প্রবাল দিয়ে ঘেরা এই দ্বীপেই রয়েছে সবচেয়ে বড় তেল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং রপ্তানির পাইপলাইন। ইরান যত তেল রপ্তানি করে তার সিংহভাগ যায় এখান থেকেই। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দ্বীপই ইরানের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানির কেন্দ্র।

শুক্রবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে খার্গ দ্বীপে হামলার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমার নির্দেশে ইরানের মুকুটের রত্ন খার্গে দ্বীপে বোমাবর্ষণ করেছে আমেরিকার সেনা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সব সামরিক কাঠামো।’ তবে তেলের পরিকাঠামোয় কোনও আঁচ লাগতে দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। হরমুজ় খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘মানবিক কারণে তেলের পরিকাঠামোয় হাত দিইনি আমরা। কিন্তু ইরান যদি হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে না দেয়, তাহলে সিদ্ধান্ত পাল্টাব।’

ইরানের অর্থনীতি তেলের উপরে নির্ভরশীল। আর তাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চিন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খার্গ দ্বীপে হামলা হলে ইরানের অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ পিটার ক্যাটিনাসের কথায়, ‘খার্গে দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের পক্ষে টিকে থাকা মুশকিল।’ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রায় ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

খার্গ দ্বীপ শুধু তেল রপ্তানির কেন্দ্র নয়, স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতেও ইরানের জন্য এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। উল্লেখ্য, এ দিনই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে আড়াই হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণাও করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে তিনটি যুদ্ধজাহাজও। ফলে যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

You might also like!