
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বিশ্বের নজর যখন ইরানের দিকে, তখন নিঃশব্দে কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি বারুদের স্তূপের ওপর এসে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে আমেরিকা যে ‘মেগা’ সামরিক মহড়া শুরু করেছে, তাতে হাজারেরও বেশি সেনা, অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এবং রণতরীর উপস্থিতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে পিয়ংইয়ংকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে কিম জং উন যাতে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, সে জন্যই এই ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের। তবে কিমের মতো একজন একনায়ক, যিনি সামান্য প্ররোচনাতেই পারমাণবিক পরীক্ষার হুঁশিয়ারি দেন, তাঁর ঘরের কাছে এই রণপ্রস্তুতি পরিস্থিতিকে হিতে বিপরীত করে তুলতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার তরফে জানা যাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিরাট এই যুদ্ধ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনা। ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই মহড়া চলবে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত। মার্কিন সেনাবাহিনী অবশ্য স্পষ্ট করেনি তাদের কতজন সেনা এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। যদিও অনুমান করা হচ্ছে, হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মহড়ায় অংশ নিতে পারে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এই মহড়ার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকাকে সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করছে। যদিও আমেরিকা এই ইস্যুতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে সামরিক সরঞ্জামের গতিবিধি সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করবে না তারা।তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকার এই সেনা মহড়াকে উত্তর কোরিয়া ভালো চোখে দেখবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনিতে আমেরিকার সঙ্গে ঠোকাঠুকি লেগেই থাকে উত্তর কোরিয়ায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ফুৎকারে উড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সর্বদা এগিয়ে কিম জন উন। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে এই ধরনের মহড়া আসলে কোনও দেশের উপর হামলা চালানোর প্রাথমিক মহড়া। সামরিক অভিযান চালানো ও অস্ত্র পরীক্ষার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই মহড়াগুলিকে। এহেন পরিস্থিতির মাঝে উত্তর কোরিয়া কী পদক্ষেপ করে সেদিকেই নজর বিশ্বের।
