
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-এর মৃত্যুর পর এবার এক বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সন্ধ্যায় এবিসি নিউজ়ের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, খামেনেই তাঁকে অন্তত দু’বার হত্যার ছক কষেছিলেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা তিনি আগেই নস্যাৎ করে দেন। শনিবার ভোরে তেহরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার পরই ট্রাম্পের এই বয়ান বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে সাংবাদিকের দেওয়া এই তথ্য এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের শত্রুতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
এবিসি নিউজ়ের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল ট্রাম্পের সঙ্গে সেই কথোপকথনের কথা এক্সে লিখেছেন। তিনি লেখেন, ‘আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমায় এই কথা বলেছেন: ও আমাকে পাওয়ার আগে আমিই ওকে পেয়ে গেছি। ওরা দু’বার চেষ্টা করেছিল। আমিই প্রথমে পেয়ে গেলাম।’ ওই সংবাদিক জানিয়েছেন, আমেরিকার গোয়েন্দাদের একটি সূত্র মনে করে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন খামেনেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রসঙ্গই তুলে ধরেছেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে সে খবর জানান। তিনি লেখেন, ‘এটা ইরানের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার হল তা-ই নয়, মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার হল। সেই সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ, যাঁরা খামেনেই এবং তাঁর রক্তপিপাসু ঠগ-গোষ্ঠীর হাতে নিহত হয়েছেন, তাঁরাও ন্যায়বিচার পেলেন।’ ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্সকে রবিবার রাতে (আমেরিকার সময়) জানিয়েছেন, ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলা চলতে পারে আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। ইজ়রায়েলও হামলায় মার্কিন সমর্থন পাবে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ইরান কে চালাবেন, আমার কাছে তার তিনটে দারুণ নাম রয়েছে।’’ তবে নামগুলি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, ‘‘এখনই সেই তিনটে নাম আমি বলে দেব না। আগে কাজটা হোক।’’২০২৪ সালে ট্রাম্পকে দু’বার হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার সভায় তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট পাম বিচে গলফ খেলার সময় ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তাঁকে আমেরিকা থেকে বার করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
