
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:যাহাই সিপিএম, তাহাই বিজেপি—রাহুল গান্ধীর এই নয়া সমীকরণ কি বিরোধী জোটের কফিনে শেষ পেরেক? কেরলে গিয়ে সিপিএম-কে ‘সিজেপি’ বলে আক্রমণ করে রাহুল বুঝিয়ে দিলেন যে, ভোটব্যাঙ্কের লড়াইয়ে জোটের গাণিতিক হিসেব সবসময় খাটে না। বাংলায় বাম-কংগ্রেসের যে ‘মৈত্রী’র ছবি এতদিন দেখা যাচ্ছিল, রাহুলের এই মন্তব্যে তাতে বড়সড় ধাক্কা লাগল। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক, আর অন্যদিকে জোটসঙ্গীকে বিজেপির বি-টিম বলা—রাহুলের এই দ্বিমুখী আক্রমণ তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিল।
এতদিন পর্যন্ত বাম ও কংগ্রেসের সম্পর্ক ছিল দিল্লি-বাংলায় দোস্তি, কেরলে কুস্তি। কিন্তু এবারের কেরলের বিধানসভা ভোটের আগে সবরকম দোস্তি ভুলে সিপিএমের সঙ্গে পুরোদস্তুর কুস্তির মেজাজে কংগ্রেস। কেরলে ভোটপ্রচার করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা সাফ বলে দিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ন্ত্রণ করেন, ঠিক একইভাবে নরেন্দ্র মোদি নিয়ন্ত্রণ করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে। দু’জনে কেরলে একসঙ্গে কাজ করছেন।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “গোটা দেশে বিরোধীদের উপর ইডি-সিবিআই আক্রমণ করছে। আমার নিজের উপর ৩৬টা মামলা। ৫৫ ঘণ্টা ডেকে জেরা করেছে। অথচ এখানকার মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় এজেন্সগুলি করছে না।” উল্লেখ্য, বিজয়নের মেয়ে বীণার বিরুদ্ধে বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাহুলের বক্তব্য, “এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনওরকম পদক্ষেপ করছে না কেন্দ্র। কারণ কেরলে সিপিএম এবং বিজেপি একসঙ্গে কাজ করছে। ওরা সিপিএম-বিজেপি নয়। ওরা আসলে সিজেপি।”মজার কথা হল, রাহুলের সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেছে এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ কুণাল ঘোষের বক্তব্য, সিপিএম এবং বিজেপি যে এক-এটা এতদিনে বুঝলেন রাহুল। বাংলায় আমরা অনেকদিন আগেই বুঝেছিলাম।
