
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুম্বইয়ের ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে বারবার কেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ফিরে আসেন অরিজিৎ সিং? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল তাঁর বাবা সুরিন্দর সিং-এর কথায়। দেশভাগের ইতিহাস, পারিবারিক সংগ্রাম আর বাংলার মাটির টান—সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে অরিজিতের জীবনের ভিত।
দেশভাগের দুঃসহ স্মৃতি, নতুন ঠিকানা বাংলায়- অরিজিতের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল অবিভক্ত ভারতের লাহোর। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের অস্থির সময়ে পরিবারটি সব ছেড়ে চলে আসে বাংলায়। কাপড়ের ব্যবসায়ী পরিবার প্রথমে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় আশ্রয় নেয়, পরে জিয়াগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। গঙ্গার তীরবর্তী সেই ছোট শহরেই গড়ে ওঠে তাঁদের নতুন জীবন।
‘শমু’ থেকে তারকা- জিয়াগঞ্জে অরিজিৎ আজও ‘শমু’ নামেই পরিচিত। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে স্থানীয় গুরুদ্বারে যাওয়া, অনুষ্ঠানে কীর্তন গাওয়া—সঙ্গীতের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় সেখানেই। পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশেই সুরের ভিত পোক্ত হয়।

মাটির টানেই ফেরা- খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও অরিজিৎ মুম্বইয়ে স্থায়ী হতে চাননি। তাঁর বাবার কথায়, জিয়াগঞ্জের শান্ত পরিবেশ, গঙ্গার ধারের নির্জনতা—এসবই তাঁকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। সেই কারণেই নিজের সন্তানদেরও সেখানকার স্কুলে পড়াচ্ছেন এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন।
প্লেব্যাকের পরও থামেননি- চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা করলেও সঙ্গীত থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর স্বাধীন গান রায়না ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, অরিজিৎ সিং শুধু জনপ্রিয় গায়ক নন—তিনি এক ইতিহাসবাহী পরিবারের উত্তরসূরি, যার শিকড় লাহোরে হলেও হৃদয়ের ঠিকানা আজও জিয়াগঞ্জের মাটিতে।
