
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সুরের জগতে হঠাৎই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে-র প্রয়াণে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে সঙ্গীতমহল। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন বিনোদন জগত, রাজনীতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
শেষযাত্রার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিল্পীর নাতনি জনাই ভোঁসলে। প্রিয় ঠাকুমাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন তিনি। সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়া ঠাকুমার নিথর দেহের ছবি শেয়ার করে জনাই লিখেছেন, এই শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই তাঁর ঠাকুমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, যা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
ঠাকুমাকে হারানোর একরাশ যন্ত্রণা সকলের সঙ্গে ভাগ করে লিখেছেন,’এই মুহূর্তে আমার ভিতর যে অনুভূতিটা হচ্ছে সেটা বলে বোঝাতে পারব না। এখন কিছু লিখতে পারছি না, পরে লিখব। তবে একটা বলতে চাই, অগণিত মানুষ আমার দিদাকে সারাজীবন সম্মান করেছেন। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রত্যেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন, ভালোবাসায় মুড়িয়ে দিয়েছেন। আমি অন্তর থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাই। এগুলো ওঁর প্রাপ্তি। আমি জানি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বাঁচে থাকবেন এবং অমৃত সুরলোক থেকে সবকিছুই দেখবেন। তুমি আমার জীবনের ভালোবাসা আর আমার সেই ভালোবাসাকে চিরবিদায়।’

১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আশা ভোঁসলে। প্রথমে হৃদরোগের আশঙ্কা করা হলেও পরে তাঁর নাতনি জানাই ভোঁসলে সোশাল মিডিয়ায় আপডেট দিয়ে দিদার স্বাস্থ্যের খবর জানিয়েছিলেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছিলেন, ‘ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আমার ঠাকুমা আশা ভোঁসলে। আমরা অনুরোধ, আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। চিকিৎসা চলছে তাঁর। আশা করি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আগামী দিনে যা ঘটবে, আমরা আপনাদের জানাবো।’ দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও। তবে সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ১২ এপ্রিল রবিবাসরীয় বেলায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক-এ শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় কিংবদন্তি শিল্পীকে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং অসংখ্য অনুরাগীর চোখে জল নিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শেষ বিদায় জানান তাঁকে। বিকেল চারটে নাগাদ শুরু হয় শেষকৃত্য, এবং সন্ধ্যার আগে পুত্র আনন্দ ভোঁসলে সম্পন্ন করেন মায়ের অন্তিম অনুষ্ঠান। সুরের সেই অনন্ত যাত্রায় পাড়ি দিলেও, তাঁর গান ও স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
