
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: চারদিকে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। টিভির পর্দা খুললেই একের পর এক ভয়াবহ দৃশ্য, সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে নানা খবরের বন্যা। এরই মধ্যে জ্বালানি বা গ্যাসের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে বাড়িতে বড়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্করা অনেক সময় পরিস্থিতি বুঝে, তথ্য যাচাই করে নিজেদের মানসিকভাবে সামলে নিতে পারেন। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তারা সবকিছু সরলভাবে নেয় এবং বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই নানা ভয় ও দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করে। ফলে যুদ্ধ, বোমা বা সংকটের মতো শব্দগুলো তাদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। ফলত, অনেক শিশুই অকারণে ভীত হয়ে পড়ছে বা উদ্বেগে ভুগছে। এমতাবস্থায় কীভাবে সামলাবেন তাকে, রইল টিপস।
১. বাড়িতে খাবার টেবিলে বসে কিংবা মোবাইল স্ক্রল করতে করতে উত্তেজিত হয়ে খুদের সামনে যুদ্ধের কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, ছোটদের সবচেয়ে ভরসাস্থল তার বাবা-মা। তাঁরা ভয় পেয়ে গিয়েছেন বুঝতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই ছোটরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
২. খুদে যদি যুদ্ধ নিয়ে কোনও কথা বলে, তা এড়িয়ে যাবেন না। মন দিয়ে শুনুন, সে কি বলতে চাইছে। বোঝার চেষ্টা করুন সে ঠিক কতটা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
৩. একবার যুদ্ধের কথা যখন বলে ফেলেছেন, তখন আর লুকনোর চেষ্টা করবেন না। খুদেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সহজে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলুন। সে যে এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট নিরাপদ রয়েছে, সে বিষয়টি খুদের মাথায় গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. অনেক সময় যুদ্ধের কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে খুদে। আবার কেউ কেউ কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে শিশুর প্রতি বিশেষ নজর দিন।
৫. যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে তার মন অন্য়ত্র ঘোরানোর চেষ্টা করুন। নইলে খুদের শরীর খারাপ হতে পারে। পড়াশোনায় মনসংযোগ নষ্ট হতে পারে।
৬. বেশি ভাবনাচিন্তা করছে বুঝতে পারলে শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যান। আইসক্রিম খাওয়ান। বোঝান তার বাড়ির আশপাশে যুদ্ধের লেশমাত্র নেই। সব যেমন ছিল তেমনই স্বাভাবিক রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বড়দের দায়িত্ব শুধু নিজেদের মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা নয়, বরং ছোটদের মনকেও স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হওয়া। কারণ নিরাপদ ও স্বস্তির পরিবেশই শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
