
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বহু বেকার যুবক-যুবতীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি পৌঁছে গিয়েছে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের মাসিক ১৫০০ টাকা। মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়ে অনেকেরই দৈনন্দিন খরচের কিছুটা চাপ কমেছে। তবে এই টাকা হাতে পাওয়ার পর অনেকেই দ্বিধায় পড়ছেন— টাকাটি প্রয়োজনীয় খরচে ব্যবহার করবেন, নাকি ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখবেন। বর্তমান বাজারদরে ১৫০০ টাকা খুব বড় অঙ্ক না হলেও, অর্থনীতিবিদরা বলছেন সঠিক পরিকল্পনা করলে এই ছোট অঙ্কের টাকা দিয়েও বড় সঞ্চয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অল্প অল্প করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করলে ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে সেই অর্থ ধীরে ধীরে বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। ফলে এই সামান্য অর্থকেও ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কাজে লাগানো সম্ভব।
∆ কেন জমানো প্রয়োজন?
আজকের ১৫০০ টাকা দিয়ে আপনি যা কিনতে পারছেন, ৫ বছর পর তা পারবেন না। অর্থাৎ, টাকা ব্যাঙ্কে ফেলে রাখলে বা খরচ করলে তার ভ্যালু বা মূল্য কমছে। এই টাকাটিকে যদি আপনি কোনও সম্পদে রূপান্তর করতে পারেন, তবেই তা ভবিষ্যতে আপনার কাজে আসবে।
∆ কী কী উপায় বিনিয়োগ করতে পারবেন?
* শেয়ার বাজার(Stock Market): আপনার যদি একটু সাহস থাকে, তবে সরাসরি নামী দামী কোম্পানির শেয়ার বা অংশীদার হতে পারেন। ভারতের বাজারে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টিসিএস (TCS) কিংবা এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের মতো বড় শেয়ারে অল্প অল্প করে টাকা রাখা যেতে পারে। ৫-১০ বছরের লক্ষ্য নিয়ে নামলে এখান থেকে যে রিটার্ন পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও মিলবে না। তবে মনে রাখবেন, এখানে ঝুঁকি একটু বেশি।
* মিউচুয়াল ফান্ড বা এসআইপি (SIP): বিনিয়োগের দুনিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম এসআইপি। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কোনও ভালো ফান্ডে জমা করাকে বলা হয় এসআইপি। আপনি যদি যুবশ্রীর ১৫০০ টাকা থেকে মাত্র ১০০০ টাকা সরিয়ে প্রতি মাসে একটি ভালো ‘ইনডেক্স ফান্ডে’ জমা করেন, তবে ১২% বার্ষিক রিটার্ন হিসেবে ধরা হলে ৫ বছর পর আপনার হাতে থাকবে প্রায় ৮২,০০০ টাকা। ১০ বছর পর এই অঙ্কটাই বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২.৩ লক্ষ টাকা। যেখানে আপনার পকেট থেকে জমা হচ্ছে মাত্র ১.২ লক্ষ টাকা, কিন্তু কম্পাউন্ডিংয়ের ফলে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বেশ কিছু অ্যাপের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই এটি শুরু করা যায়।
* সোনা (Gold): সোনা মানেই গয়না গড়িয়ে আলমারিতে তালাবন্ধ করে রাখার দিন শেষ। এখন আপনি ‘ডিজিটাল গোল্ড’ কিংবা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ‘সোভারেন গোল্ড বন্ডে’ বিনিয়োগ করতে পারেন। এটি বাজারের সমস্যা থেকে আপনার টাকাকে সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে দারুণ লাভ দেয়।
* নিরাপদ সরকারি সঞ্চয় (PPF বা RD): যারা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁদের জন্য সেরা বিকল্প হল পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কের সেভিংস স্কিম।
* পিপিএফ (PPF): বর্তমানে এক্ষেত্রে ৭.১% সুদ পাওয়া যায়। প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে জমালে ১৫ বছর পর আপনি প্রায় ৩.২৫ লক্ষ টাকা পাবেন। এটি সম্পূর্ণ করমুক্ত এবং সরকারিভাবে সুরক্ষিত।
* আরডি (RD): আপনি যদি আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে কোনও ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে মাসে ১৫০০ টাকাই আরডিতে জমান। মেয়াদ শেষে যে মোটা অঙ্কটা পাবেন, তা দিয়ে ছোট কোনও স্টল বা অনলাইন ব্যবসার মূলধন জোগাড় হয়ে যাবে।
* রিয়েল এস্টেট (Real Estate): হয়তো ভাবছেন ১৫০০ টাকায় জমি কেনা কি সম্ভব? সরাসরি না হলেও, এই টাকা নিয়মিত জমিয়ে যদি বড় একটা পুঁজি তৈরি করেন, তবে ভবিষ্যতে কোনও ল্যান্ড বা প্রপার্টিতে বিনিয়োগ করার কথা ভাবা যেতে পারে। জমি বা ফ্ল্যাট থেকে আসা মাসিক ভাড়া আপনার উপার্জনের একটি স্থায়ী রাস্তা তৈরি করে দেবে।
মনে রাখবেন, পুরো টাকা খরচ না করে তার একটি অংশ সঞ্চয় বা ছোটখাটো বিনিয়োগে রাখলে ভবিষ্যতে তার সুফল পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই ধীরে ধীরে আর্থিক নিরাপত্তার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।
