
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আগেই হাতে এসেছে টার্মিনেশন লেটার। তার প্রতিবাদে সোমবার পথে নামলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। তাঁদের বিকাশ ভবন অভিযান ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। অথচ এখন বেতন বৃদ্ধি তো দূরের কথা, চাকরিই চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, চাকরি হারালে সংসার চলবে কীভাবে?
সোমবার করুণাময়ীতে জড়ো হন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। তাঁরা বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল শুরু করেন। মিছিল বিকাশ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকাশ ভবনের সামনেই অবস্থান শুরু করেন তাঁরা। এই চুক্তি ভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা আইসিটি ঐক্য মঞ্চ ৬ এবং ৭ ফেজের শিক্ষক। এই দুই ফেজে মোট ৩ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। চুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ হয়। পুজোর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরেই সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। যে এজেন্সি তাঁদের নিয়োগ করেছিল তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই সব শিক্ষকদের চুক্তি পুনর্নবীকরণ হবে না। এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছে, সংস্থার সঙ্গে তাঁদের চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তারপর নতুন টেন্ডার হবে। এর জেরে এই সব চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের কারও চাকরি থাকবে না। তাঁদের টার্মিনেশন লেটারও চলে এসেছে। শিক্ষকরা জানান, পুজোর সময় সবাই বোনাস পায়। আর তাঁরা টার্মিনেশন লেটার পাচ্ছেন।
আইসিটি ইন্সট্রাকটর শিক্ষকদের দাবি, এজেন্সি প্রথা বন্ধ করে সরাসরি গভমেন্ট কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী হিসেবে তাঁদের নিয়োগ করতে হবে। এক থেকে ৫ ফেজের শিক্ষকরা রাজপথে লড়াই করে গভর্মেন্ট কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী হিসেবে তারা সুবিধা পাচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজ করার পরও ষষ্ঠ এবং সপ্তম ফেজের শিক্ষকেরা ওয়েবেল স্কুল নেট কিংবা এক্সট্রা মার্কের মতো এজেন্সির অধীনে থেকে কাজ করছেন। এজেন্সি প্রথার অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে নিজের ন্যায্য অধিকার ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বিকাশভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
