
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা এসআরএফটিআইয়ে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কড়া বার্তা দিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আন্দোলনের নামে ভারতমাতার অপমান কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারার মতো ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে মন্ত্রীর এই অবস্থানের পালটা শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছে এসআরএফটিআই অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রবণতা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে। ফলে এসআরএফটিআইয়ের সাম্প্রতিক অশান্তিকে ঘিরে পালটা অভিযোগ ও রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।
গত রবিবার এসআরএফটিআই-য়ের অডিটোরিয়ামে আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানস্থলে যায় এসএফআই। কেন শিক্ষাক্ষেত্রে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আয়োজকদের দাবি, উত্তেজনার মাঝে এসএফআইয়ের তরফে অনুষ্ঠানস্থলে থাকা ভারতমাতার ছবি ছেঁড়া হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ। পালটা তার প্রতিবাদ করেন আয়োজকরা। তার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তা সত্ত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে ইট, পাথর ও বোতলবৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন জখম হয় বলেও দাবি এসআরএফটিআই অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের। তাঁদের দাবি, কারও মাথা ভেঙেছে। কারও বা কপালে লেগেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দাও করেছেন পড়ুয়ারা।
ঋত্বিক চক্রবর্তী থেকে ঊষসীর মতো একাধিক বাম মনোভাবাপন্ন তারকারা সোশাল মিডিয়ায় সুর চড়িয়েছেন। তবে যে বা যারা বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরেছে কিংবা ভারতমাতার অপমান করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “যারা এই কাজ করেছে তারা বামমনস্ক হতে পারে। আবার নকশালও হতে পারে। তবে কোনও বাঙালি ছাত্র বিবেকানন্দকে লাথি মারতে পারে না।” এদিকে, এই ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় এখনও পর্যন্ত ৪টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার কিংবা আটক হয়নি।
