কলকাতা, ৪ এপ্রিল : ২০১৬ এসএসসি-র শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে বড় দাবি শুনিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুক্রবার প্রাক্তন বিচারপতির দাবি, "যোগ্যদের বাছাই করার পথ আছে। যাঁরা জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন, তাদের আলাদা করে বাছাই করা সম্ভব।" এই মামলার তদন্তে নেমে সিবিআই জানিয়েছিল, বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে। যোগ্য, অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব নয়। চূড়ান্ত রায়দানের সময় শীর্ষ আদালতও জানিয়ে দিয়েছে, যে যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো প্যানেলই বাতিল করা হল।
তবে অভিজিৎবাবু জানান, যাঁরা সৎ ভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন জমা দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, "নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তা তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের জেরা করলেই জানা যাবে জালিয়াতি করে কারা চাকরি পেয়েছিলেন।" পুরো প্যানেল বাতিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে নাম না করে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "এই রায়টা যিনি প্রথম দিয়েছিলেন তিনি বিচার ব্যবস্থা ছেড়ে দিয়ে বিজেপির এমপি হয়েছেন। সাম গাঙ্গুলি না ডাঙ্গুলি!" শুক্রবার এ প্রসঙ্গে তৃণমূলকেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "তৃণমূলের তরফ থেকে আমাদের ফ্রি হ্যান্ড দিক, কারা জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন তাদের তালিকাটা বের করে দেব।’ প্রাক্তন বিচারপতির দাবি ঘিরে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।