kolkata

7 hours ago

Kalighat TMC 21 July: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাঙচুরের অভিযোগ, রাতভর পাহারায় মমতা-অভিষেক; রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

Mamata Banerjee
Mamata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণকে ঘিরে গভীর রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে চরম উত্তেজনা ছড়াল। ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে সাজানো মঞ্চ ভাঙচুর করে তছনছ করে দেয়। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ দলের শীর্ষ নেতারা। রাতভর মঞ্চের সামনেই অবস্থান করে পাহারা দেন তাঁরা। তবে মঙ্গলবার সকালে দেখা যায় ভিন্ন ছবি—ভাঙচুরের কোনও দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। নতুন করে সাজানো হয়েছে মঞ্চ, সেখানে উপস্থিত রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী-সমর্থক, আর গোটা এলাকা ঘিরে রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা।

হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে ক্যাথিড্রাল রোডে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে এবছর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ বেঁধেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় একুশের সভাস্থল ঘুরে দেখেন তৃণমূলনেত্রী। সেসময় অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁদের সভা-মিছিল করতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা দূরদূরান্ত থেকে কলকাতার‍ সভায় যোগ দিতে আসছেন, তাঁদের থাকার জায়গাও দেওয়া হচ্ছে না! রাতে তাঁর সেই অভিযোগ কিছুটা সত্যি হল। ১১টা বাজতে না বাজতেই খবর মেলে, কালীঘাট তৃণমূলের ওই মঞ্চে হামলা চলেছে। ফেসবুক লাইভে তা বোঝাও গিয়েছে। ব্যানার, হোর্ডিং সব রাস্তায় পড়ে রয়েছে, প্যান্ডেল কিছুটা খোলা। 

এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ডেরেক ও ব্রায়েনরা ফের সভাস্থলে ছুটে যান। মমতা সেখান থেকেই হ্যান্ড মাইকে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের অভিযোগ তোলেন। জানান, তাঁরা রাতভর এখানে বসেই পাহারা দেবেন, যাতে একুশের শহিদ তর্পণ অনুষ্ঠানে আর কেউ কোনও ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বিড়লা তারামণ্ডলের  সামনে থেকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ফেসবুক লাইভে জানান, কেউ বা কারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একুশের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান বানচাল করে দিতে চাইছিল। কিন্তু তাতে মাথা নোয়ানো ।যাবে না। আবার মঞ্চ আগের মতো সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহিদ দিবস পালন হবেই। কর্মী-সমর্থকরা নিশ্চিন্তে যোগ দিন। জানা গিয়েছে, আজকের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে রাতে তাঁরা সেখানেই ছিলেন সকলে। 

অন্যদিকে, শহিদ মিনার অর্থাৎ যেখানে কংগ্রেসের একুশে জুলাই কর্মসূচি পালন হচ্ছে, সেখানে যাওয়ার পথে কয়েকজন কর্মীকে বাধা দেওয়া হয় বলে খবর। তা নিয়ে প্রেস বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি লিখেছেন, ‘বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে শহীদ মিনার ময়দানে আগত কর্মীদের উপর গতকাল রাতে দুর্গাপুর মুচিপাড়ায় আক্রমণ চালায় বিজেপির দুষ্কৃতকারীরা, ভাঙচুর করা হয়েছে তাঁদের বাসও। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে জমায়েত হওয়া কংগ্রেস কর্মীদের উপর একই ভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। আসানসোল এবং কুলটি, উত্তর ২৪ পরগণার বিরাট, নিউ বারাকপুর, খড়দহ – এমন অনেক স্থানে বাস মালিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা কংগ্রেসকে বাস ভাড়া না দেন। অন্ডাল স্টেশনে কংগ্রেস কর্মীদের ব্যাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস কর্মীদের আটকানো হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। এত কিছু উপেক্ষা করেও কংগ্রেস কর্মীরা দলে দলে আজ সকাল থেকেই শহীদ মিনারের পথে। যারা তৃণমূলের স্বৈরাচার ও গণতন্ত্রহীনতার কথা বলে এবং ‘ভয় আউট – ভরসা ইন’ বলে ক্ষমতায় এসেছিলো তারা আজ নিজেরাই কংগ্রেসের জনভিত্তিকে এতটাই ভয় পেয়েছে যে, তারা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে কংগ্রেসের সমাবেশ বানচাল করতে মাঠে নেমে পড়েছে। কিন্তু কোনো শক্তিই কংগ্রেসকে আটকাতে পারবে না; শহীদ মিনারের শহীদ দিবসকে সফল করে তুলবেন কংগ্রেসের কর্মীসমর্থকরা এবং সাধারণ মানুষ।’

You might also like!