Breaking News
 
Chinmoy Prabhu: চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতায় ফের বিক্ষোভ, সন্ন্যাসীদের মিছিলে পুলিশি বাধায় উত্তেজনা Flydubai Attack: ৯/১১-র পর বিমানে ‘অস্ত্র’ নিয়ে বড় বদল, সেই নিয়মের সুযোগেই জঙ্গি হামলা? প্রকাশ্যে সরকারি বিবৃতি Siliguri Cow Smuggling Row: গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু যুবকের, ভাঙচুর একাধিক গাড়ি, উত্তেজনা WB Special Ration Package: পুজোর আগে রেশনে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’! অর্ধেক দামে ময়দা-চিনি-সুজি, জানুন বিস্তারিত Suvendu on Mamata : নন্দীগ্রামে মমতার চোট নিয়ে ফের তদন্তের নির্দেশ, রিপোর্ট হাতে শুভেন্দু, ভোটের পর শুরু তদন্ত প্রক্রিয়া Bayron Biswas: বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

Life Style News

6 months ago

Baby Care: শিশুর ঘুম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণা, জানুন বিজ্ঞানের আসল কথা

Baby Sleep Tips
Baby Sleep Tips

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছ’মাস পার হলেই শিশু টানা রাতভর ঘুমাবে। কেউ আবার সতর্ক করেন, দিনে বেশি ঘুমালে নাকি রাতে ঘুম কমে যায়। এমন অসংখ্য পরামর্শের ভিড়ে অনেক নতুন বাবা-মায়ের মনেই প্রশ্ন জাগে—“আমার সন্তান কি ঠিকমতো ঘুমোচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ঘুম কোনও নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা নয়। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি শিশুর ঘুমের ধরন আলাদা, এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বদলাতেও থাকে। তাই অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।


চলুন, শিশুর ঘুম নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি ধারণা ও তার বাস্তব ব্যাখ্যা জেনে নেওয়া যাক—  


১. বেশিরভাগ শিশু রাতভর টানা ঘুমায় — বাস্তবে তা নয়: 

‘স্লিপ থ্রু দ্যা নাইট’ কথাটা অনেকের কাছে যেন সোনার পাথর বাটি। কিন্তু গবেষণা বলছে, ছ’মাস বয়সেও অধিকাংশ শিশু রাতে অন্তত একবার জেগে ওঠে। নরওয়েতে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছ’মাস বয়সি প্রায় ৭০% শিশু রাতে জাগে। এমনকী দেড় বছর বয়সেও চারজনে একজন অন্তত একবার রাতে জাগে। ফিনল্যান্ডের আরেক গবেষণায় তিন থেকে আট মাস বয়সি শিশুদের গড়ে দু’বারের বেশি জাগতে দেখা গিয়েছে। ভিডিও পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, বাবা–মা টের না পেলেও শিশুরা মাঝেমধ্যে জেগে আবার নিজে থেকেই ঘুমিয়ে পড়ে। ভালো দিক হল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জাগার সংখ্যা কমে আসে। বেশিরভাগ শিশু সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই দীর্ঘ সময় ঘুমোতে শেখে।


২. সব রাতের জাগাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়: 

শিশু জাগলেই তাকে ‘অভ্যাসের সমস্যা’ বলা সহজ। কিন্তু কখনও কখনও শারীরিক কারণও থাকতে পারে। আয়রনের ঘাটতি, খাবারে অ্যালার্জি, রিফ্লাক্স, কানের সংক্রমণ কিংবা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা শিশুর ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণা বলছে, প্রায় ৬% শিশুর মধ্যে স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা যায়। তাই রাতের জাগা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করলেও, যদি ঘন ঘন অস্বস্তি বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


৩. রাতে ১২ ঘণ্টা ঘুমই আদর্শ — এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই: 

সব শিশুর শরীর একভাবে কাজ করে না। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্ম থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের গড় রাতের ঘুম ১১ ঘণ্টার মতো। অন্য়দিকে এশীয় দেশে এই সময় আরও কম। আমেরিকান অ্য়াকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিনের তথ্য় বলছে, ৪–১২ মাস বয়সে শিশুর ১২–১৬ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট, আর ১-২ বছরে ১১–১৪ ঘণ্টা। এর কতটা দিনে আর কতটা রাতে, তা শিশুভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনও শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঘুম পাড়ানো উচিত নয়। এতে ঘুমাতে দেরি, রাতে বারবার জেগে যাওয়া, খুব ভোরে উঠে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


৪. কোলে, গাড়িতে বা দোলনায় ঘুম স্বাস্থ্য়কর নয় — এমন প্রমাণ নেই: 

অনেকে মনে করেন, চলন্ত অবস্থায় ঘুম মানে হালকা ঘুম। কিন্তু বিজ্ঞান তা সমর্থন করে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, মৃদু দোলায় শিশুরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে এবং কম কাঁদে। এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, মৃদু দোলা গভীর ঘুম বাড়াতে সাহায্য করে। এটা অস্বাভাবিকও নয়। গর্ভে থাকাকালীন শিশুরা প্রায় ৯০% সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়, আর মায়ের নড়াচড়ার সঙ্গে নিয়মিত দুলতে থাকে। তাই কোলে ঘুম মানেই ঘুম ভাল হবে না—এই ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।


৫. দিনে বেশি ঘুম মানে রাতেও বেশি ঘুম— সব সময় সত্য নয়:

কিছু শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে অস্থির হয়ে পড়ে, এটা ঠিক। কিন্তু দিনে বেশি ঘুমোলেই রাতে বেশি ঘুম হবে—এমন সরল সমীকরণ সাধারণত কাজ করে না। দু-বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যেদিন তারা দুপুরে ঘুমোয়, সেদিন রাতে ঘুমোতে দেরি হয় এবং মাঝরাতে জেগে যায়। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের বাড়তি ঘুম, রাতে সামান্যই ঘুম বাড়ায়। ঘুমের পেছনে কাজ করে ‘স্লিপ প্রেসার’। যত বেশি সময় জেগে থাকা, ঘুমের প্রয়োজন তত বাড়ে। দিনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুম হলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়াই স্বাভাবিক।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর ঘুম কোনও পরীক্ষার খাতা নয়, যেখানে নির্দিষ্ট নম্বর পেতেই হবে। বরং এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যা সময়, যত্ন ও ভালোবাসার সঙ্গে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়। তাই অন্যের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা না করে, তার স্বাভাবিক ছন্দকে বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, যদি শিশুটি খাচ্ছে, বেড়ে উঠছে এবং সক্রিয় থাকে, তবে তার ঘুম নিয়েও অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজ্ঞান বলছে—শিশুর ঘুম স্বাভাবিকভাবেই নিজের পথ খুঁজে নেয়। 

You might also like!