Entertainment

23 hours ago

Durga Puja 2026: দশমীতে মেটে-চচ্চড়ি বাধ্যতামূলক, ষষ্ঠী থেকে নবমী নিরামিষ! রইল মল্লিক বাড়ির পুজোর অজানা রীতি

The Mallick family's Durga  Puja—Ranjit and Koel's celebration
The Mallick family's Durga Puja—Ranjit and Koel's celebration

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  তিলোত্তমার বুকে সাবেকি দুর্গাপুজোর কথা উঠলেই যে কয়েকটি বনেদি বাড়ির নাম অনায়াসেই সামনে আসে, ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ি তার মধ্যে অন্যতম। অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিকের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের দুর্গোৎসব প্রতি বছরই তৈরি করে আলাদা আগ্রহ। পুজোর আচার, রীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের টানেই এই বাড়ির দুর্গাপুজো আজও কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ। ১৯২৫ সালে শুরু হওয়া মল্লিক বাড়ির এই প্রাচীন দুর্গোৎসবের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর। সময় বদলেছে, শহরের পুজোর ধরনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তবু নিজেদের সাবেকি রীতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে মল্লিক পরিবার। আভিজাত্যের পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র নিয়ম ও প্রাচীন আচারই এই পুজোকে দিয়েছে তার নিজস্ব পরিচয়। 

গুপ্তিপাড়া থেকে ভবানীপুর: এই পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা ১৯২৫ সালে, রাধাগোবিন্দ মল্লিকের পুত্র সুরেন্দ্রমাধব মল্লিকের হাত ধরে। তবে ভবানীপুরের আগে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তাঁদের আদি নিবাসে দেবী আরাধনার প্রচলন ছিল। নতুন ঠিকানায় পুজো শুরু হলেও পুরনো সংস্কার ও নিয়ম অটুট রয়েছে আজও। শুধু রঞ্জিত বা কোয়েলই নন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং ‘ইকমিক কুকার’-এর উদ্ভাবক ইন্দুমাধব মল্লিক কিংবা বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিকের নামও জড়িয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে।

গয়না পরান নারীরা, অস্ত্র দেন পুরুষেরা: জন্মাষ্টমীর দিন দেবীর কাঠামো পুজোর মাধ্যমে প্রস্তুতি শুরু হয় মল্লিক বাড়িতে। একচালা সাবেকি এক প্রতিমায় ডাকের সাজে সজ্জিত থাকেন দেবী দুর্গা। তবে প্রতিমার সাজসজ্জার ক্ষেত্রে রয়েছে এক চমকপ্রদ নিয়ম— দেবীর গায়ে সোনার অলঙ্কার পরাণ পরিবারের মেয়েরা, আর এরপর দেবীর হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের।


বৈষ্ণব রীতি ও বিশেষ নৈবেদ্য: মল্লিক বাড়ি আদ্যোপান্ত বৈষ্ণব মতাবলম্বী। ফলে এখানে কোনো বলির প্রথা নেই। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত সমস্ত নিয়ম মেনে নিরামিষ আহার চলে। অষ্টমীতে ১০৮টি প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে উঠোন, অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপুজো ও সন্ধিপুজো। প্রথা মেনে পুজোর ক’দিন দেবীর প্রসাদে থাকে লুচি, রকমারি ভাজাভুজি, নাড়ু, ফল ও ক্ষীর।

দশমীর রাত ও ঐতিহ্যবাহী 'মেটে চচ্চড়ি': বিসর্জনের পর দশমীর রাতে বাড়িতে আমিষ রান্নার অনুমতি মেলে। আর সেই বিশেষ ভোজের আকর্ষণ হলো বহুকালের ঐতিহ্যবাহী ‘মেটে চচ্চড়ি’। প্রজন্ম বদলে গেলেও দশমীর রাতের এই বিশেষ পদের স্বাদ আজও মল্লিক পরিবারের পুজোর আমেজকে অটুট রেখেছে। কর্মসূত্রে পৃথিবীর যে প্রান্তে যিনিই থাকুন না কেন, পুজোর এই চার-পাঁচ দিন পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে মল্লিক বাড়িতে হাজির হন। অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও শুটিংয়ের ব্যস্ততা ভুলে পুরোদস্তুর ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে কুমারীপুজো থেকে অতিথি আপ্যায়ন—সব দায়িত্ব সামলান নিজের হাতে।


You might also like!