
মুম্বই, ১৩ এপ্রিল : প্রয়াত জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তথা মৃণাল সেনের নায়িকা উত্তরা বাওকর। ৭৯ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি। বিনোদন জগতে শোকের ছায়া।
উত্তরা বাওকর থিয়েটার, সিনেমা এবং টেলিভিশন- তিনটি মাধ্যমেই সফলভাবে কাজ করেছেন। ১৯১৬ সালের ১৭ মে মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে প্রখ্যাত মারাঠি নাট্যকার জয়ন্ত দালভির 'সন্ধ্যা ছায়া' নাটকটির হিন্দি রূপান্তরের পরিচালনা করেন। ১৯৮৪ সালে হিন্দি থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য তিনি সংগীত নাটক আকাদেমি অ্যাওয়ার্ড পান। ষাটের দশকের মাঝামাঝি তিনি দিল্লির 'ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা'-য় অভিনয় শিখেছেন ইব্রাহিম আলকাজির অভিভাবকত্বে।
আশির দশকের মাঝামাঝি টেলিভিশনের পর্দায় তিনি শ্যাম বেনেগালের 'যাত্রা' টিভি সিরিজে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে আসেন। তারপরের বছরই তিনি গোবিন্দ নিহলানি পরিচালিত টেলিভিশন সিরিজ 'তামস'-এ অভিনয় করেন। তার দুবছর পরেই অভিনয় করেন মৃণাল সেনের হিন্দি ছবি 'একদিন আচানক'-এ। এরপর তিনি মারাঠি ছবি 'দোঘি', হিন্দি ছবি 'রুকমাবতী কি হাভেলি', 'সরদারি বেগম', 'বাস্তু পুরুষ', 'আজা নাচলে', নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত 'ডোর' -এর পাশাপাশি হিন্দি ধারাবাহিক 'উড়ান', 'কশ্মাকশ জিন্দেগি কি', অন্তরা, কোরা কাগজ, 'জসসি জ্যয়সি কোই নহি'-র মতো আরও বহু হিন্দি, মারাঠি ছবি ও টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। মৃণাল সেনের হিন্দি ছবি একদিন অচেনাকে সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনযয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন উত্তরা। ওই ছবিতে অধ্যাপক (ডক্টর শ্রীরাম লাগু)-র স্ত্রীর চরিত্রে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর অসুস্থ ছিলেন উত্তরা বাওকর। মহারাষ্ট্রের পুনে শহরেই জীবনের শেষ দিন কাটিয়েছেন তিনি। পুণের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানেই বুধবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ছাত্র-ছাত্রী ও সহকর্মীরা।
