
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুছে যাচ্ছে ‘বিশ্ববাংলা’! নব্য জমানায় লোগো বদলের পথে বিজেপি সরকার। তৃণমূল জমানার অন্যতম পরিচয়বাহী ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোটি এবার সমস্ত সরকারি নথিপত্র, স্কুলের পোশাক এবং নীল-সাদা তোরণ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী জাতীয় প্রতীকের (অশোক স্তম্ভ) মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ‘ব’ অক্ষরের সেই সুপরিচিত লোগোর বদলে সরকারি চিঠিপত্রে কেবল অশোক স্তম্ভ বা ভারত সরকারের নির্ধারিত ফরম্যাট ব্যবহারের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শনিবারের শপথ গ্রহণের আগেই এই প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের ‘ব’ লোগোতে বেসরকারি হস্তক্ষেপ ছিল। তার বৈধতা নিয়ে দানা বাঁধে তীব্র বিতর্ক। জানা গিয়েছে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন রাজ্য সরকার এই লোগোটি যতদিন ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারে। যদি সেটি ব্যবহার না করা হয়। সেক্ষেত্রে লোগোটি ফিরে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই। সেটিই হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বলে রাখা ভালো, ফল ঘোষণার পর থেকে সব দপ্তরের সচিব এবং পুলিশ কর্তাদের সরকারি কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালার পাঠানো ওই চিঠিতে নাকি লোগোর ব্যবহার করা হয়নি। তারপর থেকেই লোগো বদলের চর্চা আরও জোরাল হয়েছে বলেই খবর। ইতিমধ্যে প্রত্যেক দপ্তরকে সতর্ক করা হয়েছে। কেন্দ্রের যেকোনও বার্তার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও তথ্য জানতে চাওয়া হলে, তা অতি দ্রুত পাঠাতে হবে বলেই নির্দেশ।
শুধু লোগোই নয়। শোনা যাচ্ছে, একাধিক প্রকল্পের নামের ক্ষেত্রেও আসতে পারে নানা পরিবর্তন। আমলা মহলের তরফে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় অনুদানভুক্ত প্রায় সব প্রকল্পের নামে বদলের প্রক্রিয়া নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে। বলে রাখা ভালো, এর আগে প্রকল্পের নাম নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত হয়েছে। সে কারণেই এবার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পের নামও বদল হতে পারে বলেই খবর। শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরই আদৌ পরিবর্তন হবে কিনা তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
