
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজ্যজুড়ে গেরুয়া শিবিরের উচ্ছ্বাস, আবির-আতসবাজিতে কার্যত উৎসবের আবহ। রাজনৈতিক পালাবদলের এই আবেগঘন মুহূর্তেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন বারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার কথা জানান রাজ। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—পরাজয়ের পরই কেন এই সরে দাঁড়ানো? এই আবহেই নাম না করে কটাক্ষ ছুড়ে দেন পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধি। সমাজমাধ্যমে সৌরভ লেখেন, “হেরে গেলে রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যায়? এদেরকে বেসিক কোনও রাজনৈতিক শিক্ষার বই উপহার দেওয়া যায় না?” যদিও কোথাও সরাসরি রাজের নাম উল্লেখ করেননি তিনি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পোস্টের লক্ষ্য যে প্রাক্তন বিধায়কই, তা স্পষ্ট।
বরাবরই স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত সৌরভ। ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক হোক কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ—নিজের অবস্থান জানাতে কখনও পিছপা হন না তিনি। বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী সৌরভ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন সমাজমাধ্যমে। তিনি লিখেছিলেন,‘২০০৬ তেও ছিলাম ২০২৬ এও আছি এবং থাকব। সুদীপ্ত, মইদুল, আনিস, তামান্নার খুনিদের ক্ষমতায় আসার আগেও ছিলাম, তাদের বিদায় নেওয়ার পরেও আছি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌরভের বক্তব্যের মূল সুর হল—রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জায়গা নয়, বরং আদর্শের লড়াই। তাই নির্বাচনে পরাজয়ের পরই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ভালোভাবে নিতে পারেননি বলেই মত নেটমাধ্যমের একাংশের। একুশের নির্বাচনে জয় পেয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন রাজ চক্রবর্তী। তবে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেননি রাজ, ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে রাজনৈতিক ও টলিপাড়ার অন্দরে।
