
কলকাতা, ২৬ জুলাই : এই বছরের আগস্টের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে ‘মহিলা দৃষ্টিহীনদের বিশ্ব ফুটবল’। এর জন্য বাংলার দুই দৃষ্টিহীন ভারতীয় দলে নির্বাচিত হয়েছেন। সঙ্গীতা মেত্য এবং প্রতিমা ঘোষ কেরালার শিবিরে গিয়েছেন। সেখান থেকে তাঁরা যুক্তরাজ্যে রওনা হবেন।
একদিকে এটি রাজ্যের দৃষ্টিহীন মেয়েদের ফুটবলের জন্য দুর্দান্ত খবর, এই সঙ্গে এটি খেলাধুলার প্রতি সরকারের উদাসীনতার খবর হিসাবেও চিন্তা করার মতো।
কেরালায় কোচিতে ১০ দিনের নির্বাচন শিবিরের পর তাঁদের বাছাই করা হয়েছে। দলটি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ভারতীয় দৃষ্টিহীন ফুটবল ফেডারেশন (আইবিএফএফ) ২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত মেয়েদের জন্য দুই সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করবে। রাজ্যের দৃষ্টিহীন মেয়েদের মধ্যে ফুটবল প্রচারের মূল চালিকাশক্তি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড অফ বেঙ্গল (এফএবিবি) সচিব গৌতম দে। তিনি জানিয়েছেন, “এই প্রথমবারের মতো বাংলার মেয়েরা এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে৷ এর আগে শুধুমাত্র দৃষ্টিহীন ছেলেরাই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।”
গৌতমবাবু জানান, “আমি মেয়েদের অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। খেলাধুলা করার জন্য যাঁরা আমাদের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন, তাঁদের এটা বোঝানো কঠিন। কারণ তাঁরা তাঁদের মেয়েদের সুস্থতা নিয়ে শঙ্কিত। ফুটবল খেলতে আসা এ রকম মেয়েরা খুব দরিদ্র পরিবার থেকে আসে। অভিভাবকরা মেয়েরা আহত হতে পারেন ভেবে ভয় পান।”
গৌতমবাবু নিজে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অন্ধ ফুটবলার হয়ে খেলেছেন। এর জন্য সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতার চরম অভাব। এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা সত্যি দুঃখের এবং খুবই হতাশাজনক। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর কোনও সরকারি স্বীকৃতি আমাদের কাছে আসেনি। সরকার এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও আর্থিক বা অবকাঠামোগত সহায়তা দেয়নি।”
গৌতমবাবু জানান, “এই প্রশিক্ষণের জন্য আমরা খুব কমই বিমান ভাড়া বহন করতে পারি। দুটি মেয়েকে কোচি যাওয়ার জন্য রেল ভাড়ার ব্যবস্থা করাও কঠিন মনে হচ্ছিল। আইবিএফএফ পরামর্শ দিয়েছিল যে আমরা এই মেয়েদের জন্য খাবার নিয়ন্ত্রণ করি। কিন্তু, কিছু তো ওদের পুষ্টি দিতে হবে! এমনকি তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আমি তাদের একটি জিমে ভর্তিও করতে পারি না।“
খেলাধুলার প্রতি উদাসীনতার অভাব স্পষ্ট যে মেয়েরা প্রশিক্ষণের জন্য খুব কমই জাতীয় স্তরে কোনও খেলায় অংশ নিতে পারে। সঙ্গীতা একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। সঙ্গীতা ও প্রতিমার বাবা ভাগচাষীর কাজ করতেন। বিদেশে তাঁরা দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি সঙ্গীতা। তাঁরা বলেন, “আমরা দলের জন্য আমার সেরাটা দেব। কিন্তু আমাদের কাছে সঠিক কিট নেই। পরিবারও অর্থের জন্য কঠিন চাপে রয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তারা খুব কমই বহন করতে পারে।”
আইবিএফএফ-এর ক্রীড়া পরিচালক এবং প্রধান কোচ সুনীল জে ম্যাথিউ বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। স্বতন্ত্র স্পনসরশিপের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করেছি। খেলাটিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কর্পোরেট স্পনসরশিপের পাশাপাশি সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। সব মেয়েই অভাবী ঘর থেকে এসেছে। আমরা বার্মিংহামে সেরা চারে উঠতে আশাবাদী।”
