
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের আর সরকারি কমিটি ও বোর্ডের দায়িত্বে রাখা হবে না। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তাঁদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের সময়ে সরকারি বিভিন্ন বোর্ড, সরকারি পদ যেমন ডিরেক্টর ও অন্যান্য আধিকারিক পদে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হত! সাধারণত ‘পোস্ট অফ বেনিফিট’ বা পছন্দের লোকদের একাধিক সরকারি পোস্টে দায়িত্বে রাখা হত! শুধু তাই নয়, যাঁদের বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গিয়েছিল, তাঁদেরও নতুন করে বিভিন্ন সরকারি পদের মাথায় বসানো হয়েছিল। এছাড়াও একাধিক সরকারি পদে সেইসব আধিকারিকদের বসানো হত। নতুন রাজ্য সরকার তৈরির পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল নিশীথ প্রামাণিকরা এদিনই নবান্নে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর এদিনই একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতেই দেখা যায়, আর ওইসব ষাটোর্ধ্ব আধিকারিকদের আর পদে রাখা হচ্ছে না। এদিন থেকেই সেইসব আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হল বলে খবর। কয়েকশো আধিকারিক রাজ্য সরকারের এইসব পদে নিযুক্ত ছিলেন। মোটা টাকা মাইনেও ছিল তাঁদের। পাশাপাশি যাওয়া-আসার জন্য সরকারি গাড়িও বরাদ্দ থাকত। মোটা টাকা সরকারি খাতে খরচ হত। সেই টাকা এবার থেকে সাশ্রয় হবে বলেও খবর।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রিসভার ছয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। প্রথম বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে কয়েকটি পূরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকে নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ ভাষা-সহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রথম বৈঠকেই এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি কারণ, সরকার গঠনের পরে খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি। আপাতত যে কাগজগুলি তৈরি ছিল সেই বিষয়েই প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
