
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের সময় নীরবতা, আর ফল বেরোতেই সরব প্রতিবাদ! পানিহাটির জয়ী বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তীব্র বার্তা ছুড়ে দিল অভয়া মঞ্চ—“এবার বিজেপিকে বলুন মেয়ের হত্যার বিচার দিতে।”
আর জি করে নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাড়ি পানিহাটিতেই। আর জি কর কাণ্ডের পর এই প্রথম বিধানসভা ভোট। পানিহাটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষের মুখোমুখি সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত আর নিহত তরুণীর মা রত্না দেবনাথ ছিলেন। বাম ঘেঁষা অভয়া মঞ্চের নিঃশব্দ সমর্থন ছিল কলতানের পাশেই। নির্বাচনের প্রচারপর্বে অভয়ার মা-কে আক্রমণ না করেও তারা একাধিকবার বলেছেন, “এমন দলে যোগ দিয়েছেন যারা নিজেরাই উন্নাও, হাথরসে নাবালিকা গণধর্ষণে জড়িয়ে। দেখুন বিচার পান কি না..”
চুপিসারে অভয়া মঞ্চের সমর্থন ছিল কলতানের দিকেই। যদিও শেষরক্ষা হল না। সোমবার ইভিএম খুলতেই দেখা যায় জয়ের থেকে কয়েক যোজন দূরে কলতান দাশগুপ্ত। পানিহাটিতে জয়ের মুকুট উঠেছে আর জি করে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথের মাথাতেই। বিকেলে অভয়া মঞ্চের আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরি জানিয়েছেন, আমরা অভয়ার মাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। এবার বিজেপির কাছে বিচার চান। কলতান যে হেরে গেল? অভয়া মঞ্চের দাবি, “আমরা সরাসরি কলতানকে সমর্থন করিনি। এটা অরাজনৈতিক সংগঠন। আসলে বিজেপিকে নিয়ে ভিনরাজ্যে যে অভিজ্ঞতা আছে, সেখানে দেখা গিয়েছে ধর্ষণে অভিযুক্তরা ন্যায়বিচায় পায় না। সেই কারণেই আমরা অভয়ার মাকে বলেছিলাম দেখুন কী হয়।” অতীতের একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে অভয়ার মায়ের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব রেখেছে অভয়া মঞ্চ। আর জি কর-কাণ্ডের এক বছর পর নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকে নবান্ন অভিযান কর্মসূচি হয়েছিল। সে কর্মসূচিতে না গিয়ে পাল্টা কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছিল অভয়া মঞ্চ। বাংলায় তৃণমূলের পরাজয় নিয়ে অভয়া মঞ্চের বক্তব্য, “এটা ন্যায়বিচারের দাবির আন্দোলনের জয়। যাঁরা নতুন সরকার গড়লেন তাঁদের এবার ন্যায়বিচার দিতে হবে।”
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, মেয়েকে হারানোর পর থেকে যে যন্ত্রণায় ভরে গিয়েছিল জীবন, ২০২৬ সালের ৪ মে যেন তার কিছুটা লাঘব হল। এখন রত্নাদেবী শুধু আর অভয়ার মা নন, এখন তিনি গোটা পানিহাটির জনপ্রতিনিধি। নিজের মেয়ের সুবিচারের পাশাপাশি অন্তত ২ লক্ষ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাও দেখভালের দায়িত্ব তাঁর। সেকথা মাথায় রেখেই নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন রত্নাদেবী।
