
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন। বরাবরই তৃণমূলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে শ্রীলেখাকে। পাশাপাশি বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ কমেছে বলেও অতীতে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে সেই রাজনৈতিক দূরত্বের মধ্যেই এবার ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেল অভিনেত্রীকে। দু’জনের একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে শ্রীলেখাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষও ধেয়ে এসেছে।
দিন কয়েক আগে ‘চিরশত্রু’ কুণালের মুখে কেক, এবার অগ্নিমিত্রা সঙ্গে হাসি মুখে বাক্যালাপ। রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পালটা ‘পাটকেল’ শ্রীলেখার।সোমবার সরকার পক্ষের তরফে পথকুকুর তথা সারমেয়দের জন্য পশুপ্রেমীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন পশুপ্রেমী ও অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অগ্মিমিত্রা পালের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তের ছবি ভাগ করে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত অ্যানিম্যাল লাভারদের জন্য খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে একটি গুড নিউজ। আজ এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রীমতি অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে। খুব শীঘ্রই সেই ভিডিওটি আপলোড করব এবং জানাব তিনি কী বলেছেন এবং কী নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আপাতত ছবিটা থাকুক।’

সারমেয়দের জন্য বিশেষ উদ্যোগে খুশি পশুপ্রেমী শ্রীলেখা। সেই মর্মে কার্যত উচ্ছ্বসিত হয়ে আরও যোগ করেন, ‘আমাদের হাসিমুখই হয়তো বলে দিচ্ছে শীঘ্রই ভালো কিছু আসছে। আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিম্যাল রাইটস অ্যক্টিভিস্টস ফ্রন্ট বিশ্বাস করি, পশ্চিমবঙ্গের পথের প্রাণীদের জন্য আরও মানবিক, নিরাপদ এবং সম্মানজনক ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব। সঙ্গে থাকুন। ভাল খবর খুব তাড়াতাড়ি পাবেন।’ শ্রীলেখার এই পোস্টের পরই প্রশ্নের মুখে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ। নিন্দুকদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমার আগের পোস্ট দেখে যাঁদের মনে হচ্ছে আমি হয়তো আদর্শচ্যুত হয়ে গেলাম তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক সহানুভূতি রইল। আর যাঁরা ভাবছেন, দলবদলুদের তালিকায় কোনও একদিন শ্রীলেখা মিত্রের নামটাও দেখতে পাবেন তাদের কিই বা বলি! ভাবুন,ভাবনাতো ট্যাক্স ফ্রি। তবু বলি আপনাদের কাউকেই সেই স্যাটিসফেকশন দেওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। আমি কোথায় দাঁড়াই সেটা আমার বিবেক ঠিক করে। কোনও দল, কোনও গোষ্ঠী কিংবা কারও অনুমোদন নয়।’
