
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জাপানি অ্যানিমেশনের আকাশে নেমে এল এক গভীর অন্ধকার। ‘ডোরেমন’-এর মতো বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় সিরিজের পরিচালক শিবায়ামা সুতোমু আর নেই। দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৭ মার্চ ‘আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস’-এর পক্ষ থেকে এই দুঃসংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়াত পরিচালকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণ করা শিবায়ামা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে জাপানি অ্যানিমেশনকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। ১৯৬৩ সালে কর্মজীবন শুরু করে তিনি প্রথমে তয়ী অ্যানিমেশনে কাজ করেন। পরবর্তীতে ‘দ্য গাস্টি ফ্রগ’ ও ‘টেনসাই বাকাবন’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে তাঁর দক্ষতা দর্শকমহলে নজর কাড়ে। শিন-ই অ্যানিমেশনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘আজিয়া দো’ অ্যানিমেশন ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা করে তিনি নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। তবে তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় নিঃসন্দেহে ‘ডোরেমন’। ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই জনপ্রিয় টেলিভিশন অ্যানিমি সিরিজের চিফ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর পরিচালনায় তৈরি একাধিক অ্যানিমি চলচ্চিত্র যেমন ‘নবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল আন্ডারসি ডেভিল’ কিংবা ‘ডোরেমন: নবিতা ইন দ্য ওয়ান ন্যান স্পেসটাইম ওডিসি’ দর্শক সহ শিশুমনে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পাশাপাশি ‘চিবি মারুকো’, ‘নিন্তামা রান্তারো’ এবং ‘কাইকেসু জোরোরি’র মতো কাজেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জাপানি সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তাঁকে জাপানের এজেন্সি ফর কালচারাল অ্যাফেয়ার্সের পক্ষ থেকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করা হয়। তাঁর হাত ধরেই অ্যানিমেশন জগতে এসেছে নতুন গল্প বলার ধারা, যা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করে চলেছে।

‘ডোরেমন’ শুধু একটি কার্টুন নয়, বরং এক আবেগ, এক শৈশবের স্মৃতি। নবিতা, সিজুকা আর নীল রঙের সেই জাদুকরী বেড়াল ডোরেমন—যার পকেট থেকে বেরিয়ে আসত অজস্র আশ্চর্য যন্ত্র—এই সবকিছুই যেন হঠাৎ আরও বেশি নস্টালজিক হয়ে উঠেছে তাঁর প্রয়াণে। এক প্রজন্মের শৈশব গড়ে দেওয়া এই স্রষ্টার বিদায়ে তাই মনখারাপের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে। শিবায়ামার প্রয়াণে শুধু জাপান নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশনপ্রেমীরা হারালেন এক অমূল্য সম্পদকে। বলা বাহুল্য, তাঁর সৃষ্টি ও কাজ চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে দর্শকের হৃদয়ে।
