
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রবীন্দ্রসদনে লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা জানাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তৈরি হল বিতর্কের আবহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানালেও দর্শকদের একাংশের আপত্তির মুখে কবি আর মঞ্চে ওঠেননি। মাঝপথ থেকেই নিজের আসনে ফিরে যান তিনি। ঘটনাটি ঘিরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
শনিবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর বক্তব্য রাখতে উঠে তসলিমা নাসরিন দর্শকাসনে বসে থাকা জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান। তিনি দর্শকাসনে বসে থাকা শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আহ্বান জানান। বলেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছি আমার অগ্রজ, শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামী ওখানে বসে আছেন। আমি তাঁকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।” কিন্তু জয় গোস্বামী আসন ছেড়ে এগোতেই দর্শকদের একাংশ আপত্তি জানাতে শুরু করেন। তাঁদের প্রতিবাদের জেরে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝে জয় গোস্বামী আর মঞ্চে না উঠে নিজের আসনে ফিরে যান।

এরপর তসলিমা নাসরিন তাঁর বক্তব্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলেও ওই ঘটনার প্রসঙ্গ মঞ্চে উল্লেখ করেননি। তবে অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি ভালোবেসে ওঁকে মঞ্চে ডেকেছিলাম। ওঁর রাজনৈতিক মত ভিন্ন হতে পারে, তার সঙ্গে আমার মিল না-ই থাকতে পারে, কিন্তু উনি তো বাংলা সাহিত্যের একজন বড় কবি। আমাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন, সেটা পড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু এমনটা হবে, আশা করিনি। আমি বারবার আমার বক্তব্যে যে স্বাধীন, মুক্ত চিন্তাধারার কথা বলেছি, মুক্ত পরিবেশের কথা বলছি, সেটা বজায় থাকলে ভালো লাগত।”
তসলিমার কথায়, ”মঞ্চে যে রাজনৈতিক নেতারা আজ ছিলেন, তাঁদের মতের সঙ্গে তো আমি একমত নই। তাই বলে কি আমার তাঁদের পাশে বসতে অসুবিধা হয়েছে? তা তো নয়। কারও ভাবনা অন্য কিছু হলেই যে তাঁকে বর্জন করতে হবে, তেমন পরিবেশের কথা আমি ভাবতে পারি না। নিজের আদর্শ, মতামত বজায় রেখে কারও সঙ্গে মিশতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।” রবীন্দ্রসদনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যম থেকে সাহিত্যজগত— সর্বত্রই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একাংশের মতে, জয় গোস্বামীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা একজন প্রবীণ কবির প্রতি অসম্মানজনক। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, অতীতের কিছু অবস্থানের কারণেই দর্শকদের একাংশের এই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, সাহিত্য, রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা— এই তিনের সংঘাতে রবীন্দ্রসদনের এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
