Entertainment

4 months ago

Cannes Fashion Buzz: কানের লাল গালিচায় কৃষ্ণভক্তির ছোঁয়া, ঐতিহ্যবাহী লুকে নজর কাড়লেন আরতি খেতরপাল

Aarti Khetarpal proudly represented her faith at Cannes 2026
Aarti Khetarpal proudly represented her faith at Cannes 2026

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের মঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতির উপস্থিতি নতুন নয়। তবে গত কয়েক বছরে সেই উপস্থিতি আরও গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে রাই সুন্দরী ঐশ্বর্য রাই বচ্চন কানের লাল গালিচায় গীতার শ্লোকখচিত বেনারসি পোশাকে হাজির হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। পশ্চিমী বিনোদুনিয়ার পাপারাজ্জিরাও প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরীর সৌন্দর্য আর ভাবনায় একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ। গৌরব গুপ্তার ডিজাইন করা খাঁটি বেনারসি ম্যাটেরিয়ালের চাদরে লেখা গীতার শ্লোক- ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন, মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি।’ যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘কর্মের উপরই তোমার অধিকার, ফলে নয়। কর্মফলকে নিজের উদ্দেশ্য করো না।’ বছর ঘুরতেই আবারও কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার ছাপ স্পষ্ট হল, তবে এবার কেন্দ্রবিন্দুতে আরতি খেতরপাল।

প্রথমবার কানের মঞ্চে হাজির হয়ে নিজের লুকে বৃন্দাবনের ঐতিহ্য ও কৃষ্ণভক্তিকে তুলে ধরলেন আরতি খেতরপাল।  পোশাকশিল্পী সুলক্ষণা মঙ্গার ডিজাইন করা বিশেষ বৃন্দাবন-থিমের লেহেঙ্গায় ধরা দিলেন তিনি। পোশাকের সঙ্গে ছিল কৃষ্ণমুখ আঁকা জপের ব্যাগ, হাতে ছোট্ট ‘ভগবদ্গীতা’র কপি এবং গলায় তুলসী কণ্ঠী মালা।  ঐতিহ্যবাহী অলংকার সম্পূর্ণ হয়েছিল তাঁর কানের বিশেষ সাজ। কানের কার্পেটে আরতির এই ঐতিহ্যবাহী লুক নিয়ে বুধের রাত থেকেই রীতিমতো সরগরম নেটভুবন।


আরতির এই লুক প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই তাঁর এই উপস্থিতিকে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা ও ফ্যাশনের অভিনব মেলবন্ধন বলে প্রশংসা করেছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আরতি জানান, কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার গর্বের সঙ্গে সনাতন ধর্মের প্রতিনিধি হয়ে লাল গালিচায় প্রতিনিধিত্ব করলেন। যা বৈষ্ণব ও শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে তাঁর নিবেদন। আরও লেখেন, যাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী, যাঁরা নামজপ করেন, বেদব্যাসের জন্য যিনি ভগবদ্গীতা রচনা করেছিলেন, সেই সব প্রকাশনা সংস্থার জন্য যারা এখনও বৈদিক শাস্ত্র সংরক্ষণ ও ক্রমাগত মুদ্রণ করে চলেছে এবং সেই সকল ভারতীয় পোশাকশিল্পীদের জন্য যাঁরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা আর ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটাতে সিদ্ধহস্ত। পোস্টে মায়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন আরতি। তিনি জানান, মা-ই তাঁকে জপ করতে এবং শ্রীকৃষ্ণকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। আরতি ‘সাউন্ডস অফ কুম্ভ’ অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে ২০২৬ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সেই গ্র্যামির মঞ্চেও ফ্যাশনের সঙ্গে বৃন্দাবন ও কৃষ্ণপ্রেমকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। আরতির উপস্থিতি যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল সে কথা বলার অবকাশই রাখে না।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে ভারতীয় পুরাণ, ধর্মীয় প্রতীক এবং শাস্ত্রের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। তারকারাও নানা সময়ে ‘ভগবদ্গীতা’র শ্লোক, দেবদেবীর প্রতীক কিংবা ভারতীয় ঐতিহ্যকে নিজেদের পোশাক ও অলংকারে তুলে ধরছেন। সম্প্রতি নীতা আম্বানি-র একটি বিশেষ শাড়িতেও বিভিন্ন ভাষায় লেখা ‘রাম’ নাম নজর কেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই কানের মঞ্চে আরতির এই উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। 

You might also like!