
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফের কড়া পদক্ষেপ নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। প্রায় চার বছর পর রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে চলা মনিটরি পলিসি কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে। রেপো রেট বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ঋণগ্রহীতাদের উপর। বিশেষ করে যাঁদের হোম লোন, কার লোন কিংবা পার্সোনাল লোন রয়েছে, তাঁদের ঋণের সুদের হার ও মাসিক কিস্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে উৎসবের মরশুমের মধ্যেই বাড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা।
রেপো রেট যে বাড়তে পারে সে ইঙ্গিত গত কয়েকদিন ধরেই মিলছিল। তিন দিনের এমপিসির বৈঠকের পর বুধবার রেপো রেট বৃদ্ধির ঘোষণা করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গর্ভনর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি বলেন, সর্ব সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর বলেন, ‘‘সারা বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। ব্যবসা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে বিশ্বে পরিস্থিতি বেশ জটিল। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের ফলে ধাক্কা খেয়েছে পণ্য পরিবহণে। এই পরিস্থিতিতে আমরা রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে নির্দিষ্ট সুদের হারে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি যে ঋণ নেয় অর্থনীতির ভাষায় একেই বলে রেপো রেট। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে পরিবর্তনযোগ্য (ফ্লোটিং) সুদের হারে নেওয়া আমজনতার যাবতীয় ঋণ। এর জেরে রেপো রেট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ে ঋণের ইএমআই না মাসিক কিস্তি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে যে হিসেব তুলে ধরা হয়েছে। হিসেব বলছে, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ার ফলে, যদি কেউ ৫০ লক্ষ টাকার ২০ বছরের হোম লোন নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ইএমআই ৭৮০ টাকা বাড়তে পারে। পুরো ঋণের মেয়াদ একই রাখা হলে সুদ বাবদ ১.৮৮ লক্ষ টাকা বেশি গুনতে হবে। তবে বাস্তবে এটা ঠিক কতটা বাড়বে তা নির্ভর করছে ব্যাঙ্কের সুদের হার, শর্ত এবং রিসেটের উপর।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষবার রেপো রেট বাড়িয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এরপর এতদিন তাতে কোনও বদল আনা হয়নি। তবে যুদ্ধের জেরে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেয় শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এতে মধ্যবিত্তের ঋণের বোঝার ভার একদিকে যেমন বাড়ে, অন্যদিকে ফিক্সড ডিপোজিট-সহ অন্যান্য সঞ্চয়ী প্রকল্পে ব্যাঙ্কগুলি বেশি হারে সুদ দেয়। এর জেরে উপকৃত হন বহু মানুষ ও প্রবীণ নাগরিকরা।
