
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভায় রাজ্য সরকারের পাশ করানো গুন্ডাদমন আইনের বিলে এখনও অনুমোদন মেলেনি রাষ্ট্রপতির। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো বিলের খসড়া ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিলটির একটি অংশের সঙ্গে ১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের বিধানের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে আপত্তি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সরকারের পাশ করা ওই বিল নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিলের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, এখন সেদিকেই নজর।
গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রশাসন যদি মনে করে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন কিংবা কোনও বড়সড় সমাজবিরোধী অপরাধের চক্রান্ত করছেন, তবে অপরাধ ঘটানোর আগেই তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১২ মাস অর্থাৎ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে সরকার নির্ধারিত কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে।
নতুন আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞা ও পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি এবং গায়ের জোরে সাধারণ মানুষের জমি বা বাড়ি দখল করা, বেআইনি ভাবে নদী থেকে বালি তোলা, অবৈধ খনি কারবারকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। যারাই সাধারণ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে তারাই গুন্ডা। বিধানসভায় পাশ করানোর পর রাজ্য সরকার অবিলম্বে বিলটিকে আইনে পরিণত করতে উদ্যোগী ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত ওই আইনে রাজ্যের ছাড়পত্র মিলল না। বিলটি ফেরত পাঠানোর সময় রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, “১৯৮৫ সালের এনডিপিএস আইনের সঙ্গে এই আইনের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।” তবে রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরালেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করার বিকল্প রয়েছে সরকারের হাতে। এদিকে রাষ্ট্রপতি ওই আইন ফেরত পাঠানোয় সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না মমতা তৃণমূল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় সরকারকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “ডবল ইঞ্জিন শুধু পোস্টারেই। প্রশাসনের ক্ষেত্রে শুধুই রিভার্স গিয়ার। হোমওয়ার্ক সংশোধন করার জন্য পাঠানো হল।”
Double engine on the posters. Reverse gear in governance. Homework returned for correction. 😅 https://t.co/H5Ti0zX7pQ
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) September 25, 2026
