
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটচুরি ইস্যুকে এবার তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির পথে হাঁটতে চাইছে ইন্ডি জোট। ২০টি দলের বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ছ’দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেই একই দাবিতে সাংবাদিক বৈঠকেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত জনসভার মেজাজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর এক দফা দাবি, “ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা, জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট রিজাইন।” মমতার বক্তব্যের সময় তাঁর বলার ভঙ্গি ও আবেগঘন উপস্থাপনাও নজর কেড়েছে। সেই সময় পাশে থাকা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়াও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা।
এদিন দিল্লিতে কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি জোটের বৈঠক শেষে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইন্ডি জোট। প্রথম কর্মসূচি আগামী ২ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ ব্যানারে জেলায় জেলায় যৌথ মিছিল। দ্বিতীয় কর্মসূচি আগামী ৬ আগস্ট লোকসভা এবং রাজ্যসভার সব বিরোধী সাংসদের নির্বাচন কমিশন অভিযান। তৃতীয় কর্মসূচি, সংসদে বিরোধী দলগুলির নেতারা একযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা বলবে। চতুর্থ কর্মসূচি, দেশের পাঁচ বড় শহরে ভোটচুরি ইস্যুতে পাঁচটি বড় জনসভা। পঞ্চম কর্মসূচি, নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে মেগা জনসভা। তাতে একসঙ্গে অংশ নেবেন রাহুল গান্ধী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ষষ্ঠ কর্মসূচি, আমজনতার কাছে গিয়ে মানুষকে বোঝানো।
এমনিতে ইন্ডিয়া জোট ২৩ দলের। তবে এদিন মাত্র ২০টি দল অংশ নেয় বৈঠকে। অখিলেশ যাদব, এমকে স্ট্যালিন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো তাবড় নেতারা এদিনের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন। উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেন অনলাইনে যোগ দেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, বৈঠকে অনেক পরামর্শ রাহুল গান্ধীও দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিয়েছেন। কিন্তু তিনি যেটা বললেন না সেটা হল একের পর এক শীর্ষ নেতার গরহাজিরা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ৩ রাজ্যের ৩ বড় বিরোধী নেতার অনুপস্থিতিতে একপ্রকার ভাঙা হাঁটে পরিণত করেছে ইন্ডিয়া বৈঠককে।
সেই বৈঠক থেকেই মমতার হুঙ্কার, জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “ওরা বিহারে ভোটচুরি করে জিতেছে। ওরা মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়ে ভোট চুরি করে জিতেছে। ২০২৪ সালে ভোটচুরি করে জিতেছে। জ্ঞানেশ কুমার চোর হ্যায়। ওরা ভোটচুরি করছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকে। আমরা ওদের হারাবই।” মমতার সাফ কথা, “আমাদের ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা, জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট রিজাইন।”
