
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর মামলায় তৃণমূলের বড় জয় এসেছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শুনানিতে নথি হিসেবে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণ করতে হবে। এই রায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনীতিতে তৃণমূলের কাছে বড় স্বস্তির খবর।
গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূল সহ রাজনৈতিক মহলে বিএলএদের শুনানিতে উপস্থিত থাকার অধিকার নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছিল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিতর্ক হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, শুনানিতে ভোটাররা চাইলে যে কোনও একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি যদি বিএলএ হন, তাতেও কোনও আপত্তি নেই। অর্থাৎ এবার শুনানিতে থাকার অনুমতি পেলেন বিএলএরা।
২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। কাজটি পরিচালিত হচ্ছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে, কারণ সেই বছর শেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা সহ ১২টি রাজ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুনরায় এই কাজ পরিচালনা করছে।
নির্বাচন কমিশন আগে ১৩টি নির্দিষ্ট নথি গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছিল, যা ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে এবং ভুল সংশোধনের জন্য জমা দিতে হবে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড প্রথমে তালিকায় ছিল না। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। ফলে বিভিন্ন স্তরে ভোটাররা এ নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে নোটিস আসায় জানা গেছে, কমিশন মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গৃহীত হবেনা।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। এদিন শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে গণ্য করতে হবে। এছাড়া আদালত বলেন, ভোটাররা চাইলে শুনানিতে যেকোনো একজনকে সঙ্গে নিতে পারবেন, তিনি যদি বিএলএ হন তাতেও আপত্তি নেই। রাজ্যের রাজনীতিক মহলে এই রায়কে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
