
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে ঘোষিত হলো বড় নির্দেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুনানিতে যাঁদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতি রয়েছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা প্রশাসনিক কার্যালয় এবং অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে। মামলার শুনানি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে হয়, যেখানে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল শুনানিতে যুক্ত হন।
এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, ”মা ও সন্তানের বয়স ১৫ বছরের ফারাক কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি হতে পারে? আমরা এমন দেশ বাস করি না, যেখানে বাল্যবিবাহ প্রথা উঠে গিয়েছে।” এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে বিচারপতিরা জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সিতে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা টাঙাতে হবে পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিসে। বলা বাহুল্য, এদিন শীর্ষ আদালতের বেশিরভাগ পর্যবেক্ষণ, মন্তব্যই তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছে। এর ফলশ্রুতি হিসেবে সভামঞ্চ থেকেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ”আজ কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব।”
মামলাটির শুনানি শেষে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ”শুনানিকেন্দ্রের সংখ্যা অতি কম, ১৯০০-র বদলে ৩০০ মাত্র। বিএলও সংখ্যা শূন্য, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেখুন লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি বলতে কী বলা হচ্ছে। ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাককেও এর মধ্যে ধরা হচ্ছে। সকলের নাম ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। আমাদের দাবি, কারা কেন শুনানির নোটিস পাচ্ছে এবং করে শুনানি, তার বিস্তারিত তালিকা টাঙানো হোক।” বানানের সামান্য হেরফেরেও শুনানিতে তলব করা হচ্ছে, সেকথা উল্লেখ করে সিব্বলের সওয়াল, ”Ganguli, Dutta বানানগুলো নানাভাবে লেখা যায়। অথচ তার জন্য শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নামের বানান মিলিয়ে দেখে তাঁদের বাদ দেওয়া উচিত।”
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে ১৫ বছরের কম ফারাক থাকলে তাদের নোটিস পাঠানো হয়। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, ”মা ও সন্তানের বয়স ১৫ বছরের ফারাক কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি হতে পারে? আমরা এমন দেশ বাস করি না, যেখানে বাল্যবিবাহ প্রথা উঠে গিয়েছে।” শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, ভোটাররা শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় চাইলে যেকোনো একজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি যদি বিএলএ হন, তাতেও কোনও আপত্তি নেই। অর্থাৎ শুনানিতে বিএলএদের উপস্থিতি অনুমোদিত হলো।
