
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সেদ্ধ হোক বা ভাজা, মাছের ঝোল থেকে শুরু করে মাংস কিংবা নিরামিষ তরকারি—ভারতীয় রান্নায় আলুর উপস্থিতি প্রায় অপরিহার্য। স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এটি শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু বাজারে পাওয়া আলু আদৌ কতটা খাঁটি, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বর্তমানে দ্রুত ফলন ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আলুর মধ্যে কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আলুকে অস্বাভাবিকভাবে বড়, চকচকে ও দ্রুত পরিণত করার জন্য ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হচ্ছে। এর ফলে আলুর স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
∆ কীভাবে বুঝবেন আলু খাঁটি কিনা?
১. রঙের পরীক্ষা: আলু কাটার পর রং দেখে খাঁটি আর ভেজাল আলু চিহ্নিত করতে হবে। প্রাকৃতিক আলুর বাইরের স্তর এবং ভিতরের স্তরের রং প্রায় এক রকমের হয়। কিন্তু যদি কাটার পর দেখা যায়, দুই স্তরের রঙে বিস্তর ফারাক রয়েছে, তা হলে বুঝতে হবে, সে আলু পুরোপুরি প্রাকৃতিক নয়। যদি আলুর ভিতরে হালকা ছাইরঙা বা সাদাটে ভাব থাকে, তা হলে সেই আলু ব্যবহার না করাই ভাল।
২. গন্ধের পরীক্ষা: প্রাকৃতিক আলুতে হালকা মাটি মাটি গন্ধ থাকে। কিন্তু যদি আলুর গন্ধ তীব্র হয় বা রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যায়, তা হলে সেটি চিন্তার বিষয়।
৩. জলের পরীক্ষা: অনেকেই আলুর শুদ্ধতা পরীক্ষায় জলের ব্যবহার করেন। এক পাত্র ভর্তি জলে আলু ফেলে দিন। যদি সেটি ভেসে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, সেটি খাঁটি নয়। কারণ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণের ফলে আলু নিজের ঘনত্ব হারিয়ে ফেলে হালকা হয়ে যেতে পারে। নীচে ডুবে গেলে, সেটি শুদ্ধ আলু হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে এই পরীক্ষা সব সময়ে সঠিক ফল না-ও দিতে পারে।
৪. খোসার পরীক্ষা: প্রাকৃতিক আলুর খোসা পাতলা হয় এবং সহজে পিলার দিয়ে তুলে ফেলা যায়। খানিক রুক্ষ হয়, তবে শক্ত নয়। কিন্তু রাসায়নিকের ব্যবহার করা হলে খোসা ভারী হয়ে যায়। সহজে তোলা যায় না খোসা। শক্ত হয়ে আলুর গায়ে এঁটে থাকে। নখ দিয়ে অল্প খুঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করলেই পার্থক্য টের পাওয়া যাবে।
