
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অমলেট বানানো আর নতুন কী—এমনটাই মনে করেন বেশিরভাগ গৃহিণী। এমনকী যাঁরা রান্নাঘরে খুব একটা পারদর্শী নন, তাঁরাও অনায়াসে ডিম ফেটিয়ে অমলেট বানিয়ে ফেলেন। ডিমে নুন, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা মিশিয়ে তেলে দিলেই দু’মিনিটে তৈরি হয়ে যায় অমলেট—এমনটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু সত্যিই কি বিষয়টি এতটা সহজ? রান্নার পদ্ধতি, উপকরণের পরিমাণ ও সংযোজনের ধরন বদলালেই অমলেটের স্বাদে বড় ফারাক পড়ে। বিশেষ করে মাশরুম দিয়ে অমলেট বানাতে গেলে অনেকেরই অভিযোগ—মাশরুম জল ছেড়ে দেয়, ফলে অমলেট নেতিয়ে যায় বা স্বাদ ঠিক জমে না। তবে কয়েকটি ছোট কৌশল মানলেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
প্রথম ধাপ: কাঁচা পেঁয়াজ, লঙ্কার মতো মাশরুম ধুয়ে কুচিয়ে ডিমে ফেটিয়ে অমলেট বানালে হবে না। মাশরুম হালকা ভেজে নেওয়া জরুরি। এতে যেমন স্বাদ বাড়বে তেমনই মাশরুমে থাকা অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাবে। মাশরুম ধুয়ে পাতলা করে কাটুন। এবার কড়াইয়ে মাখন বা তেল দিয়ে ভেজে নিন। যোগ করুন রসুন কুচি। দিন নুন। মাশরুম থেকে জল ছাড়ে। তাই এটি আঁচ বাড়িয়ে ভেজে নিন। মাশরুম হালকা ভাজা হয়ে গেলে তুলে রাখুন।
দ্বিতীয় ধাপ: অমলেটের জন্য ২ টি ডিম নিলে তার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ তরল দুধ মিশিয়ে নিন। তার পরে খুব ভাল করে ডিম ফেটাতে হবে যতক্ষণ না ফেনার মতো হয়ে মিশ্রণটি ঘন হচ্ছে।দুধ দিয়ে ফেটালে অমলেট ভীষণ নরম হয়।
তৃতীয় ধাপ: অমলেট ভাজতে হবে কম আঁচে। প্রথমে তেল বা মাখন গরম করে নিন। তেল গরম হয়ে ধোঁয়া উঠতে শুরু হওয়ার মুখে আঁচ কমিয়ে ফেটিয়ে নেওয়া ডিম দিন। ডিম ফেটানোর সময় নুন না দিয়ে, ডিম কড়াইয়ে দেওয়ার পরে একটু কাঁচা ভাব কমে এলে তখন ছড়িয়ে দিতে পারেন। তাতে ডিম নরম হয়।
চতুর্থ ধাপ: ডিমটি ঢাকা দিয়ে আঁচ কমিয়ে রান্না করুন। তার পর ভেজে নেওয়া মাশরুম, চাইলে পেঁয়াজ, চিজ়, চিলি ফ্লেক্স বা গোল মরিচ যোগ করতে পারেন। পুর দেওয়ার পর অমলেট দু’পাশে মুড়ে নিন।
পঞ্চম ধাপ: ডিম সামান্য নরম থাকা অবস্থাতেই আঁচ বন্ধ করতে হবে। কারণ, কড়াই তেতে থাকে। সেই তাপে আরও ২ মিনিট রাখলেই ডিমের নরম ভাব শক্ত হবে। যদি আঁচে থাকে, তা হলে ডিম বেশি তাপে বেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে।
যে কোনও অমলেটই গরম গরম খেলেই সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু লাগে, আর মাশরুম অমলেটও তার ব্যতিক্রম নয়। উপরন্তু, চিজ় দেওয়া থাকলে অমলেট ঠান্ডা হলেই চিজ় জমে যায়, ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাদ আর পাওয়া যায় না।
