
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ছোট্ট তুলতুলে এক প্রাণকে ঘিরেই বদলে যায় গোটা জীবন। মাতৃত্বের প্রথম কয়েক মাস চোখের পলকে কেটে যায়। আর ঠিক তারপরই আসে বাস্তবের কঠিন ডাক—ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ফের কর্মক্ষেত্রে ফেরার সময়। একদিকে সদ্যজাত সন্তান, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর কেরিয়ার—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন বহু কর্মরত মা।
মাতৃত্বের পর কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত মানেই শুধুই শারীরিক পরিবর্তন নয়, মানসিক চাপও কম নয়। সন্তানকে রেখে অফিসে যাওয়ার সময় বুক ফাটা কষ্ট, অপরাধবোধ আর আত্মসংঘাত অনেক মায়েরই নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। সমাজের নীরব প্রত্যাশা, পারিবারিক চাপ কিংবা নিজেকেই প্রশ্ন করার প্রবণতা—সব মিলিয়ে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে।
তাই দ্বিধায় না ভুগে কয়েকটি কথা মনে রাখা জরুরী -
* সন্তান রেখে কাজ করতে যাওয়া মানে তাকে অবহেলা করা নয়। মনে রাখবেন, আপনি তার ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হেঁটে চলেছেন।
* অফিস থেকে ফিরে সকলে ক্লান্ত হয়ে যান। মা বলে তিনি ক্লান্ত হবেন না তা নয়। তাই বাড়ি ফিরে কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটান। কেউ আপনাকে ‘খারাপ মা’ বলে দাগিয়ে দেবেন না।
* বহু কর্মরত মহিলা ভাবেন তাঁরা আদর্শ মা হয়ে উঠতে পারছেন না। অনেক সময় এই ভাবনা মহিলাদের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। আপনি আবার এসব চিন্তা করবেন না যেন। মনে রাখবেন, কেউ কখনও আদর্শ হতে পারেন না। দোষ গুণে ভরা মানুষ। আর সন্তানেরা সবসময় মায়ের হাসিমুখ দেখতে চায়। মানসিক অবসাদে ডুবে চোখের তলায় কালি পড়া মাকে সে দেখতে চায় না। তাই এসব না ভেবে হাসিখুশি থাকুন।
* সন্তানের প্রথম হাঁটা, প্রথম মা ডাক শোনা এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। তার গুরুত্ব একজন মায়ের কাছে অপরিসীম। অনেক মা ভাবেন কাজের ব্যস্ততা খুদের জীবনে কত প্রথম কিছুই উপভোগ করতে পারছেন না। তা ভেবে অপরাধবোধে ভোগেন। এই চিন্তাভাবনা আজই বদলান। মনে রাখবেন, অল্প দু-চারটে মুহূর্তের চেয়ে একসঙ্গে কাটানো বাকি সময়টা যেন অনেক বেশি সুখকর হয়। তাতে মা ও সন্তানের সম্পর্কের বাঁধন আরও পোক্ত হবে।
* মা অফিসে বেরলে ছোট থেকে বহু কাজ একা করতে হয়। অন্যের পরিবারে নাক গলানো অনেকে এই বিষয়টিকে মোটেও ভালো চোখে দেখেন না। আর তা মানসিক চাপ তৈরি করে। কষ্ট পাবেন না। বরং ভাবুন আপনার সন্তান আসল জীবনের পাঠ শিখছে। যা তাকে ভবিষ্যতে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
* অফিস, বাড়ি দু’দিকে সমান তালে কাজ করতে হয় বহু মহিলাকে। শরীর দিলে করতেই পারেন। তবে না পারলে অপরের সাহায্য নিন। প্রয়োজনে বাড়িতে পরিচারিকার সংখ্যা বাড়ান। অনলাইনে মাঝে মাঝে খাবার অর্ডার করুন।
* আপনারও কিছু স্বপ্ন আছে, লক্ষ্য আছে। পরিচয় তৈরির করার ইচ্ছা আছে। সেই স্বপ্নকে খুন হতে দেবেন না। তাতে আপনি একদিন মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন।
* আপনি দশভূজা নন, একথা আগে বিশ্বাস করতে শিখুন। তাই একা হাতে সব কিছু করতে পারছেন না ভেবে দুঃখ পাবেন না।
* আপনি কত ঘণ্টা, কত মিনিট, কত সেকেন্ড সময় তাকে দিচ্ছেন তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে না। তাই এভাবে ভাববেন না। বরং যত পারেন ‘কোয়ালিটি টাইম’ খুদের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করুন।
* আপনার কেউ প্রশংসা করছে না তো কী হবে। নিজেকে ভালোবাসুন। দীর্ঘশ্বাস নিন। নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে বলুন আপনি দারুণ কাজ করছেন। তাতেই পাবেন স্বস্তি।
