
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বিভ্রান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে। বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জোর তরজা। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কে নাগরিক, কেই বা শরণার্থী, নতুন আইনে আবেদন করতে হবে কাদের? এই ধরণের একাধিক প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে সেই উত্তর মেলেনি। এই প্রেক্ষাপটে এবার কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য সিএএ নিয়ে রাজনীতি করছে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সঙ্গে অবিচার করবেন না। বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করবই। হাতজোড় করে বলছি সিএএ নিয়ে রাজনীতি করবেন না।”
২০১৯ সালে মোদী সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন আনে। যার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে নির্যাতিত অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া। তবে করোনার থাবায় কার্যত এটি বলবৎ করা হয়নি প্রায় ৪ বছর। লোকসভা ভোটের আবহে গত সোমবার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সিএএ চালু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যার জেরে শুরু হয় বাংলার মতুয়া গড়ে আনন্দোৎসব। পরের দিন হাবড়ার একটি সভা থেকে কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, “যেই CAA পোর্টালে দরখাস্ত করবেন, তখনই আপনাদের এতদিনকার নাগরিকত্ব বাতিল হবে। এতদিন যে সুযোগ সুবিধা পেতেন, তা বাদ হয়ে যাবে। তাই দরখাস্ত করার আগে ভালো করে ভেবে দেখবেন।” এর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন “এটা পুরোপুরি ভাঁওতা, জুমলা। আগে আপনাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে। তার পর CAA-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। কিন্তু সেই অধিকার আবার ফিরে পাবেন কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই।”
এই প্রসঙ্গে সমস্ত সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে শাহ জানান, “শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ফারাক বোঝেন না মমতা। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। সিএএ নিয়ে প্রতিবাদ তোষণের রাজনীতি। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সঙ্গে অবিচার করবেন না। বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করবই। হাতজোড় করে বলছি সিএএ নিয়ে রাজনীতি করবেন না। জাতীয় সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে রাজনীতি করছেন। মানুষ কখনই পাশে থাকবেন না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করছি, তিনি দেখান সিএএ-র কোন ধারা নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবারও আশ্বাস, এই আইনের জেরে কেউ নাগরিকত্ব হারাবেন না। কারণ এটা নাগরিকত্ব কাড়ার নয়, নাগরিকত্ব প্রদানের আইন।
