
নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর : দূষণমুক্ত ও নির্মল যমুনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। দিল্লির দ্বারকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যমুনা নদীর পুনরুজ্জীবন ও পরিশোধন সংক্রান্ত দিল্লি জল বোর্ডের (ডিজেবি) মোট ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। এই সমস্ত প্রকল্পের মোট আর্থিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮,৯৪১ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "দ্বারকায় আমি যমুনা নদীর সার্বিক শুদ্ধিকরণ ও পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করতে এসেছি। এই প্রকল্পগুলি যমুনাকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত করার লড়াইয়ে মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।"
তিনি আরও বলেন, "দিল্লিতে সরকার গঠনের প্রথম মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও দিল্লি সরকারের সামনে যমুনা শুদ্ধিকরণের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সেই লক্ষ্যের ৪০ শতাংশেরও বেশি পথ সফলভাবে অতিক্রম করেছি। বর্জ্য জল শোধন (স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট) এবং পানীয় জল সরবরাহের এই বৃহৎ প্রকল্পগুলি দিল্লির মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনবে।" এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও মন্ত্রী পরবেশ বর্মার প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেন তিনি।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন অমিত শাহ। বিচারবিভাগ ও জনগণের রায় নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "আদালতের রায় পক্ষে গেলে আপনারা বলেন বিচার ঠিক হয়েছে, আর রায় বিপক্ষে গেলেই বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাহুলজি, এই দ্বিচারিতা বা দ্বিমুখী নীতি আর চলবে না। দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখিয়ে জনগণের সুনির্দিষ্ট জনাদেশকে উল্টে দেওয়া সম্ভব নয়।"
আগামী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, "আগামী ৩০ বছরের জন্য আপনাদের সুযোগ আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ, বুথ স্তরের কার্যকর্তা থেকে শুরু করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত—বিজেপির প্রতিটি কর্মী সর্বক্ষণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত থেকে অক্লান্তভাবে তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে চলেছেন।"
