
নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর : প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে অন্য দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের কথা মাথায় রেখে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। অন্যদিকে, তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার উপর দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে বিশেষ পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সিসকো।
দিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বৈষ্ণব বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলায়। যে দেশের সঙ্গে আজ ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অন্য রকমও হতে পারে। তাই উৎপাদন ও অর্থনীতির কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল, তা চিহ্নিত করা জরুরি। অন্য দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে যাতে দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৈষ্ণব জানান, এই লক্ষ্য পূরণে ভারত তিনটি সময়সীমা ধরে পরিকল্পনা করছে। তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা, পাঁচ থেকে ১৫ বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ২০ থেকে ২৫ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিসকোর চেয়ারম্যান ও সিইও চাক রবিন্সও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং তথ্যের উপর দেশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ভারতের যথেষ্ট পরিসর ও সক্ষমতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিন্স জানান, তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই থেকে তিন বছর আগে ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল সিসকো। সেই আলোচনায় দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়—দেশের তথ্যের উপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলি কী ভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ও নিয়ন্ত্রণ থাকা। তথ্য দেশের বাইরে চলে যাওয়া বা অন্য কোনও সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ে বিভিন্ন সরকারের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সিসকো ‘সার্বভৌম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো’ নামে একটি পণ্য ও পরিষেবা তৈরি করেছে। রবিন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ইউরোপের একাধিক দেশে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। সম্প্রতি কানাডাতেও এটি চালু করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে পরিষেবাটি আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
