
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেই নিরাপত্তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পড়ুয়া, শিক্ষক ও কর্মীরা নিশ্চিন্তে নিজেদের কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির উপর জোর দিয়েছে হাই কোর্ট।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। সোমবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তার রিপোর্ট জমা দিয়েছে আদালতে। রিপোর্টে দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে লাগাম টানা হয়েছে। ক্যাম্পাসে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
রিপোর্ট দেখে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শুধু সিসিটিভি বসালে হবে না। ক্যাম্পাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতে সুষ্ঠু ভাবে পড়াশোনার পরিবেশ গড়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ধরনের অরাজকতা সেখানে চলবে না। এ ক্ষেত্রে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দিতে বলেছে আদালত। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ডায়মন্ড হারবারে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তার নিরাপত্তায় যেন কোনও খামতি না থাকে।
সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এ একাধিক বার বহিরাগতদের আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর এসআরএফটিআই ক্যাম্পাস অশান্ত হয়েছে। রবিবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভকারীরা ওই ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। ফটকে বেঁধে দেওয়া হয় গেরুয়া পতাকা। পড়ুয়াদের মারধরও করা হয় বলেও অভিযোগ। তার আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ছাত্র শাখা এবিভিপি-র সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস। নামী বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর পর এমন অশান্তি নিয়ে হাই কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যকে পদক্ষেপ করতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির থেকে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।
