
নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর : চেক বাউন্স মামলায় অভিনেতা রাজপাল যাদবকে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগকারীকে পাওনা টাকার অংশ হিসেবে এই অর্থ জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পরই দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজপাল যাদবের আবেদনটি আদালত বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে বিচারপীঠ।
বুধবার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজপাল যাদব। তিনি ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে আসেন। বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা তাঁর একটি সম্পত্তির ক্রেতার মাধ্যমে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ওই ক্রেতাও এদিন রাজপাল যাদবের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে রাজপাল যাদবের আচরণ নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। প্রয়োজন হলে তাঁর সাজা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। আদালত জানায়, অভিযোগকারী যাতে পাওনা টাকা পান, তা নিশ্চিত করার জন্যই বারবার সময় দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আইনকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” অভিযোগকারীর পাওনা অর্থ সুরক্ষিত করতেই টাকা জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং রাজপাল যাদবের আচরণে আদালত সন্তুষ্ট নয় বলেও জানানো হয়।
নির্দেশের পর রাজপাল যাদবের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনও হয়। নিজের ছবি ‘আটা পাটা লাপাটা’-র কারণে আর্থিক ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, ওই ছবিতে প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। ছবির প্রযোজকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন বলে তিনি জানান।
এ সময় ছবির নামের সঙ্গে রাজপাল যাদবের বর্তমান পরিস্থিতির মিল টেনে প্রধান বিচারপতি রসিকতা করে বলেন, ছবির মতো তাঁর টাকাও যেন ‘আটা পাটা লাপাটা’, অর্থাৎ উধাও হয়ে গিয়েছে। রাজপাল যাদব এরপর বিচারপতিদের প্রণাম জানান। তিনি ছবিটির কারণে ২০০-২৫০ কোটি টাকা ক্ষতির কথাও ফের উল্লেখ করেন।
প্রধান বিচারপতি তাঁকে ভালো ছবি তৈরি করে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পরামর্শ দেন। রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে যেসব আইনজীবী সওয়াল করেন, তাঁরাও ভালো অভিনেতা এবং তাঁদের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
শুনানিতে রাজপাল যাদবের আইনজীবী জানান, টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আরটিজিএস-এর মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় রাজপাল যাদব ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে আদালতে এসেছেন। বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা সম্পর্কে আইনজীবী জানান, রাজপাল যাদবের সম্পত্তির একজন ক্রেতা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। সম্পত্তির লেনদেন সম্পূর্ণ হওয়ার পর ওই অর্থ জমা দেওয়া হবে। রাজপাল যাদব নিজেও আদালতে জানান, ‘আটা পাটা লাপাটা’ ছবির সঙ্গে যুক্ত ৫ কোটি টাকার দায় থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। যদিও ছবিটির কারণে তার চেয়েও অনেক বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে ‘আটা পাটা লাপাটা’ ছবি তৈরির জন্য মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের দেওয়া ঋণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, পরবর্তীতে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট সাতটি চেক দেওয়া হয়েছিল। সেই চেকগুলি বাউন্স করার পরই মামলা দায়ের হয়। মামলাটি নিয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজপাল যাদবকে পাওনা অর্থের একটি অংশ হিসেবে ২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
বুধবার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজপাল যাদব। তিনি ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে আসেন। বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা তাঁর একটি সম্পত্তির ক্রেতার মাধ্যমে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ওই ক্রেতাও এদিন রাজপাল যাদবের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে রাজপাল যাদবের আচরণ নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। প্রয়োজন হলে তাঁর সাজা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। আদালত জানায়, অভিযোগকারী যাতে পাওনা টাকা পান, তা নিশ্চিত করার জন্যই বারবার সময় দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আইনকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” অভিযোগকারীর পাওনা অর্থ সুরক্ষিত করতেই টাকা জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং রাজপাল যাদবের আচরণে আদালত সন্তুষ্ট নয় বলেও জানানো হয়।
