
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর কোলাঘাটের অফিস এবং ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল রাজ্য পুলিশ। সেই তল্লাশিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সংক্রান্ত মামলাই এবার খারিজ করে দিল আদালত। মামলার শুনানিতে কোলাঘাট থানার তরফে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় হাই কোর্টে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তল্লাশি চালানোর পর সন্দেহজনক কোনও সামগ্রী বা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে তদন্তও এগোয়নি। ওই তল্লাশির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্টটি খতিয়ে দেখার পরই মামলাটি খারিজের নির্দেশ দেন বিচারপতি।
২০২৪ সালের মে মাস। রাজ্যের মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিয়রে লোকসভা নির্বাচন। সেই সময় হঠাৎ করেই তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কোলাঘাটের অফিস এবং ভাড়া বাড়িতে হানা দেন কোলাঘাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বিজেপির অভিযোগ ছিল, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন পুলিশকর্মী গোটা ভাড়াবাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালান। যা নিয়ে একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পুলিশ আধিকারিকরা। যদিও সেই সময় কোলাঘাটে ছিলেন না শুভেন্দু। ছিলেন অন্য একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। যদিও পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে রাতের মধ্যেই কোলাঘাট পৌঁছে যান তৎকালীন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। ছুটে যান থানাতেও। যদিও সেই সময়ে থানায় কোনও আধিকারিক ছিলেন।
ঘটনায় মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়ে থানায় দাঁড়িয়েই পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান শুভেন্দু অধিকারী। হাই কোর্টের রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তল্লাশি চালানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করা হয়েছে বলেও তোপ দাগেন। তৎকালীন বিরোধী দলনেতার মন্তব্য ছিল, ”ভাইপোর নির্দেশে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকেও হেনস্থা করা হয়েছে। মমতার সরকারের অত্যাচারের শিকার আমি। কেন আমার কোলাঘাটের ভাড়াবাড়ি, অফিসে পুলিশ গেল, তা পরিষ্কার নয়।” এরপরেই পুলিশের এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা। একাধিকবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। তবে আজ মামলা খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
