নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর : সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হামলা মোকাবিলা, নতুন প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, আলোচনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প হাতে নিয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বুধবার নতুন দিল্লিতে আসিয়ান-ভারত প্রতিরক্ষা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফোরামে রাজনাথ বলেন, ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি, উদীয়মান প্রযুক্তি, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে একটি যৌথ গবেষণা কর্মসূচি তৈরি করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে গবেষণার সমন্বয় বাড়বে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী গবেষকদের মধ্যে নিয়মিত আদানপ্রদানের উপরেও জোর দেন। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের ফেলোশিপ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং যৌথ গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করার প্রস্তাব দেন তিনি।রাজনাথ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে সামুদ্রিক বিপর্যয় মোকাবিলায় মহড়া, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা এবং সমুদ্রে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো উদ্যোগ থাকতে পারে।সরকারি পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেও গবেষক, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন তিনি। এ জন্য ‘ট্র্যাক ১.৫’ ও ‘ট্র্যাক ২’ পর্যায়ের আলোচনাকে আরও সক্রিয় করার প্রস্তাব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথের কথায়, ভারত এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বড় ও ছোট—সব দেশই নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া, স্বার্থ রক্ষা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এই ফোরামের আলোচনা যেন বাস্তব সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার উন্নতিতে কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করে, সেই আহ্বান জানান তিনি।