
নয়াদিল্লি, ১৯ অক্টোবর : ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপিত হলো রাজধানীতে। সোমবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), কারিগর, কৃষক এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের সামনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক অভূতপূর্ব সুযোগ উন্মোচিত হলো। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, "এই চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে এটি দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কত কর্মসংস্থান ও সুযোগ তৈরি করছে তার ওপর। ভারতের রফতানিকারকদের জন্য নিউজিল্যান্ডের সম্পূর্ণ বাজার উন্মুক্ত হওয়া এক বিরাট মাইলফলক।"
চুক্তির একাধিক নজিরবিহীন দিকের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো নিউজিল্যান্ডে ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পরিষেবার প্রবেশাধিকার, ভারতের 'আয়ুষ' ও চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের গতিশীলতার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিবেদিত কাঠামোর সৃষ্টি। এছাড়া নিউজিল্যান্ডে পাঠরত ভারতীয় পড়ুয়ারা পড়াশোনার পাশাপাশি চার বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনে এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।"
ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক লক্ষ্যের রূপরেখা দিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন, "আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। হাতে মাত্র চার বছর সময় বাকি থাকায় আমাদের বাণিজ্যে প্রতি বছর প্রায় ১৮ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে (সিএজিআর) প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে, যা আমাদের ব্যবসায়ীদের সামনে একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তুলে ধরছে।" তিনি আরও যোগ করেন, এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর রূপকল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। স্বাধীনতার শতবর্ষে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে এক উন্নত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যকেই এই বাণিজ্য চুক্তি আরও ত্বরান্বিত করবে।
