
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধীদের তীব্র আপত্তি ও স্লোগানের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় পেশ করা হল ‘পাবলিক একজামিনেশন সংশোধনী বিল’ বা প্রশ্নফাঁস রোধ সংক্রান্ত বিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি উত্থাপন করতেই সরব হয়ে ওঠে বিরোধী সাংসদরা। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস রুখতে নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ সামলাতেই এই বিল আনছে কেন্দ্র। তাঁদের দাবি, পড়ুয়াদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনা নিয়েও সরকারকে জবাব দিতে হবে। বিশেষ করে লাঠিচার্জ ও প্যালেট গান ব্যবহারের অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দাবি করে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন।
সংসদে এদিন বিল পেশের আগেই বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই বিল পাশ করা আমাদের অগ্রাধিকার। এখন অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা ঠিক নয়।’ বিলটি পাশ করাতে বিরোধীদের সহযোগিতা চান তিনি। তবে পালটা শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারে ব্যর্থ এই সরকার আসলে লোক দেখাতে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল আনছে। আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি এই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত একজন পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে কীভাবে মুক্তি পেয়েছে। অভিযুক্তদের রক্ষায় এই সরকার যদি তৎপর হয় তবে ফাস্ট-ট্র্যাক সংশোধনী বিলে লাভ কী? এরা এখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সফল শিক্ষামন্ত্রী বলে মনে করে।’
পাশাপাশি বিরোধীদের দাবি ২০শে জুলাই ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে ন্যক্কারজনক হামলা তার জবাব দিতে হবে মোদি সরকারকে। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব চেয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “আন্দোলনে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে পুলিশ। সাদা পোশাকে কারা মারল ছাত্রদের। ওরা কি আরএসএসের গুন্ডা? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জবাব দিতেই হবে। দিল্লির বুকে পড়ুয়াদের উপর কীভাবে প্যালেট গান চালায় পুলিশ?” প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও প্রশ্ন তোলেন, “পড়ুয়ারা কি জঙ্গি? যে তাদের উপর পুলিশ প্যালেট গান ব্যবহার করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব না মেলা পর্যন্ত আমরা থামব না।”
