Cooking

1 hour ago

Smart Cooking Tips: গ্যাস বাঁচিয়ে পুষ্টি বজায়! সংকটের সময় মেস কিংবা বাড়ির জন্য রইল সহজ স্বাস্থ্যকর মেনু

Budget Cooking During Gas Shortag
Budget Cooking During Gas Shortag

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  একাধিক বড় শহরে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ছোট হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মেস পরিষেবা। প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, পিজি-তে থাকা তরুণ-তরুণী এবং কর্মজীবী মানুষ এসব মেস বা হোটেলের খাবারের উপর নির্ভর করেন। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন খাবার ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।বিশেষ করে আইটি শহর বেঙ্গালুরুতে অনেক মেস মালিক জানিয়েছেন, আগের মতো বিভিন্ন পদ রান্না করা এখন সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস বাঁচাতে অনেকেই মেনু ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন। আগে যেখানে ভাত, ডাল, সবজি বা ডিম-সহ একাধিক পদ দেওয়া হত, এখন সেখানে খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গ্যাসের এই অস্বাভাবিক সংকটের জেরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে রান্নার ধরন নিয়েও। কীভাবে কম গ্যাসে কম সময়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে অনেক জায়গায়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং কর্মজীবী মানুষের জন্য এমন খাবারের প্রয়োজন, যা দ্রুত রান্না করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগায়। নীচে কম গ্যাস খরচে স্বাস্থ্যকর দৈনিক একটি মেনু তৈরি করে দেওয়া হল, যা মেস বা বাড়ি- দু-জায়গাতেই সহজে করা যায়।


∆ প্রাতঃরাশ: সকালের খাবার এমন হওয়া দরকার, যা দ্রুত বানানো যায় এবং সারাদিনের জন্য শক্তি বা ক্য়ালরির জোগান দেয়।

১. উপমা বা সবজি পোহা- সুজি বা চিঁড়ে দিয়ে বানানো এই খাবার খুব দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। এর সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ বা টম্য়াটো দিলে শরীর ফাইবার ও ভিটামিনের জোগান পায়।

২. সেদ্ধ ডিম ও টোস্ট- ডিম সেদ্ধ করতে খুব বেশি গ্যাস খরচ হয় না এবং এটি প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। এর সঙ্গে দুটো টোস্ট বা রুটি খেলে পেটও থাকে দীর্ঘক্ষণ ভরা।

৩. টক দই ও ফল- দইয়ের সঙ্গে কলা, আপেল বা পেঁপে খেলে খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরের জন্যও তা উপকারী। এতে তো গ্যাসের কোনও খরচই নেই।

 ∆ লাঞ্চ বা দুপুরের খাবার:  দুপুরের খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও সবজি থাকা দরকার।

১. ভাত, ডাল ও একটি সবজি- এটি সবচেয়ে সহজ এবং পুষ্টিকর মেনু। ডাল প্রেসার কুকারে দ্রুত রান্না হয়। এর সঙ্গে লাউ, ঝিঙে, বাঁধাকপি বা বিনস-গাজরের মতো দ্রুত রান্না হওয়া সবজির কোনও পদ রাখাই যায়।

২. খিচুড়ি- চাইলে কোনওদিন চাল, ডাল ও সবজি সহযোগে বানিয়ে নিতে পারেন খিচুড়ি। এতে গ্যাসও কম লাগে এবং পুষ্টিও বজায় থাকে।

৩. সাল্যাড ও দই- শসা, গাজর, টম্য়াটো দিয়ে স্বাস্থ্যকর সাল্যাড বানিয়ে নিন। সঙ্গে টক দই রাখতে পারেন। এটা হজমের জন্য় দারুণ উপকারী। নেই গ্যাসের ঝঞ্জাট।

∆ ডিনার বা রাতের খাবার: রাতে খাবার হালকা হওয়াই ভালো, যাতে সহজে হজম হয়।

১. রুটি ও সবজি- রুটির সঙ্গে লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে বা মিক্সড ভেজিটেবলের হালকা তরকারি ভালো বিকল্প।

২. ডাল বা সবজির স্যুপ- ডাল বা সবজি দিয়ে স্যুপ বানালে পুষ্টিও পাওয়া যায় আর খুব বেশি গ্যাসও পোড়ে না।

৩. ডিম ভুজিয়া বা ডিম সেদ্ধ- ডিম দিয়ে দ্রুত একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তৈরি করা যায়, যা রাতের জন্য উপযুক্ত।

∆ সাপ্তাহিক বিশেষ পদ:  মেস বা বাড়িতে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ বা মাংসের পদ রাখা হয়। সাধারণত চিকেন কারি বা ছোট মাছের ঝোল, যা তুলনামূলক কম সময়ে রান্না করা যায়। মাছ ও মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২ থাকে, যা শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এই ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সপ্তাহে একদিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

এ ভাবে মেনু সাজালে, সীমিত মেনুতেও হবে না পুষ্টির ঘাটতি। গাজর, বিনস, বাঁধাকপি বা লাউয়ের মতো সবজিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকরি। সব মিলিয়ে গ্যাসের সংকটের সময়েও সঠিক পরিকল্পনা করে মেস বা বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি বাঁচে, অন্যদিকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও বজায় থাকে।  


You might also like!